চাকরি নাকি বিয়ে!

0
99
biye
carrier-biye
চাকরি নাকি বিয়ে- প্রতীকী ছবি

অতীতে সেই রক্ষণশীল সমাজে নারীর দূরাবস্থার কথা চিন্তা করে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল লিখেছিলেন-

“চোখে চোখ আজ চাহিতে পারনা;
হাতে রুলী, পায়ে মল,
মাথার ঘোমটা ছুঁড়ে ফেল নারী,
ভেঙ্গে ফেল ও শিকল।
যে ঘোমটা তোমা করিয়াছে ভীরু
ওড়াও সে আবরণ,
দূর করে দাও দাসীর চিহ্ন
যেথা যত আবরণ।”

সত্যিই কবির কথা আজ সত্যি হয়েছে। নারীরা শেকল ভেঙ্গে বেরিয়ে এসেছে।

আমাদের দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশই হচ্ছে নারী। পড়াশুনা, খেলাধুলা থেকে শুরু করে দেশ রক্ষায়ও আজ নারীদের পদচারণা।

তবে শিক্ষিত নারী সমাজ শিক্ষা জীবনের শেষদিকে এসে সমস্যার সম্মুখীন হন। একদিকে শিক্ষা জীবনের সমাপ্তিকে পরিপূর্ণ করতে তারা ক্যারিয়ার গঠনে তৎপর হন। অন্যদিকে পরিবার-সমাজ-পরিপার্শ্বের চাপ তৈরি হয় বিয়ের জন্য। এই পরিস্থিতিতে তাদের মধ্যে তৈরি হয় মানসিক ও বহির্জাগতিক দ্বন্দ্ব।

শুধু উচ্চশিক্ষায় নয়, বরং চাকরির ক্ষেত্রেও আজ পুরুষের সমকক্ষ নারীরা। পড়াশুনা শেষে সব নারীর উপরই নিজের ও পরিবারের প্রতি এক অন্যরকম দায়িত্ব বর্তায়। অন্যদিকে বয়স বেড়ে যাচ্ছে এ রকম নানা ভাবনাও মনের মাঝে দোলা দেয়। একদিকে ক্যারিয়ার, অন্যদিকে বিয়ে- মনের মধ্যে তাই শুরু হয়ে যায় দ্বন্দ্ব।

ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে রাখুন, কোন পরিস্থিতিতে কী সিদ্ধান্ত নেবেন। আগে বিয়ে করবেন নাকি ক্যারিয়ারটাকে বিয়ের আগেই খুব ভালভাবে গুছিয়ে নেবেন। সে সম্পর্কে অবশ্য সবার ভাবনা একরকম নয়।

প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষিত একজন নারী সাধারণত অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হতে চান। তবে বিয়েকে সময়ের ধারাবাহিকতায় কোন অবস্থানে রাখবেন এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।

অনেকে শিক্ষা জীবনের শেষ সময়ে বা শিক্ষাজীবন শেষ হবার প্রায় সাথে সাথে বিয়ের পর্বটি চুকিয়ে নেন। এরপর ক্যারিয়ারের কথা ভাবেন, যাতে পারিবারিক ও সামাজিক চাপে তাদের মানসিক দ্বন্দ্ব তৈরি না হয়।

আবার বিপরীত চিত্রও দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রেই নারীরা আশঙ্কা করেন যে, বিয়েটা তার ক্যারিয়ারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে কিনা। ফলে তিনি বিয়ের আগেই পরিপূর্ণভাবে সাবলম্বী হয়ে উঠতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন।

এই দুই ধরনের সিদ্ধান্তই আসলে নারীর নিজের মনোবল এবং পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার যোগ্যতার উপর নির্ভর করে। তবে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং দৃঢ় আত্মবিশ্বাস নারীকে নিয়ে যেতে পারে অনেক দূর।

চাকরি নাকি বিয়ে- ক র ণী য়:

এক. একজন নারীর নিজেরই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত যে, তিনি কী করবেন। এতে মনোবল অটুট থাকবে।

দুই. একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে শক্ত যুক্তি দাঁড় করানো কাজের ক্ষেত্রে মঙ্গলজনক।

তিন. কোনো পরিস্থিতিকে সাহস না হারিয়ে দৃঢ় আত্মপ্রত্যয় নিয়েনারীদের এগিয়ে যেতে হবে। তাতে সাফল্য আসবেই।

চার. বিয়ের আগে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে সেক্ষেত্রে পরিবারের সাথে আলোচনা করে নিজের লক্ষ্যটি চমৎকারভাবে উপস্থাপন করুন। এতে করে পরিবারের সকলের সহযোগিতাই পাবেন আপনি।

পাঁচ. বিয়ের পরে নিজেকে গড়ে তুলতে চাইলে সবার সাথে বোঝাপড়ার মাধ্যমে নিজের প্রত্যয়ী অবস্থানটিকে জিইয়ে রাখুন।

নারীদের সবচেয়ে আপন জায়গা হলো তার পরিবার। সে বাবা-মা-ই হোক আর স্বামীই হোক। সবারই উচিত হৃদয় এবং যুক্তি দিয়ে নারীর ইচ্ছাকে ও লক্ষ্যকে উপলব্ধি করা এবং সম্মানের চোখে দেখা।

এএসএ/