সমুদ্রে ন্যায্য হিস্যা পেয়েছি : আশরাফ

0
47
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ জলসীমা সম্পর্কে আদালতের রায়ে বাংলাদেশ ন্যায্য হিস্যাই পেয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এ বিজয় কারো পরাজয় নয়; এটা যুদ্ধের মাধ্যমে হয়নি। আইনের মাধ্যমে হয়েছে। বাংলাদেশই আাদলতের দ্বারস্থ হয়েছিল। এর মাধ্যমে শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন, যুদ্ধ-বিগ্রহ নয়, আইনের মাধ্যমেই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

এ সময়ে সৈয়দ আশরাফ রায় মেনে নেওয়ায় ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

সৈয়দ আশরাফ বুধবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আনন্দ মিছিল পূর্বক সমাবেশে এ কথা বলেন।

সরকারি সংবাদ সংস্থা- বাসস জানিয়েছে, ভারতের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ ২৫ হাজার বর্গকিলোমিটার জলসীমার ১৯ হাজার ৪শ’ ৬৭ বর্গ কিলোমিটার অংশে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ জয়ে আনন্দ মিছিল ও মিছিল পূর্ব সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ।

সৈয়দ আশরাফ বলেন, বিরোধপূর্ণ জলসীমা নিয়ে এর আগে কেউই আদালতের দ্বারস্থ হননি। জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়া দফায় দফায় ক্ষমতায় ছিলেন। তারা কেউ এ বিষয়ে কথা বলেননি। শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এবং ২০১৩ সালে ভারতের বিরুদ্ধে আদলতে গিয়েছেন। রায়ও বাংলাদেশের পক্ষে এসেছে। এখানেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার তফাত। দেশের স্বার্থ আদায়ের জন্য যা যা করা দরকার তাই তিনি করেছেন।

বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতির কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, যুদ্ধ করে কোন সমাধান হয়না। ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তান তার উদাহরণ। ইসরাইল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ ৬০ বছর ধরে চলছে, কোন মিমাংসা হচ্ছে না। কিন্তু আমাদের দর্শন হচ্ছে-সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়।

তালপট্টি দ্বীপ বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, যা বর্তমানে বিদ্যমান নেই তা নিয়ে তারা কথা বলছে। তালপট্টি দ্বীপ সেই ’৮৬ সালে সমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়েছে। এখন তার কোন অস্তিত্ব নেই। বিএনপি এখন তালপট্টির কথা বলেছেন। যে জিনিস বাস্তবে নেই, সে জিনিস নিয়ে তারা আহাজারি করছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশের বিজয় হলেও একজনের পরাজয় হয়েছে। সবাই খুশি হলেও একজন খুশি হতে পারেননি। যারা বাংলাদেশে বিশ্বাস করে না তাদের পরাজয় হয়েছে। আসলে পরাজয় হয়েছে খালেদা জিয়া ও তার দলের।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধরণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, এই সমুদ্র বিজয়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের সরকার। এই সরকারই পারে জনগণের অধিকার আদায় করতে এবং এই সরকারই পারবে জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দিতে।

রায় নিয়ে বিএনপি নেতা মেজর হাফিজের বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, রায়ে কোন সমস্যা নেই। সমস্যা বিএনপি নেতা মেজর হাফিজের মধ্যে। তিনি আগে জাসদ করতেন, পরে জাতীয় পার্টি, তারপরে স্বতন্ত্র এবং বর্তমানে বিএনপি। তার নিজের মধ্যে সমস্যা থাকায় হাফিজ সবখানে সমস্যা দেখতে পান।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশ শেষে একটি আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে জিপিও পল্টন মোড় হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ গ্রহণ করেন।