আর্থিক প্রতিবেদনে আস্থা হারাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা: আইসিএমএবি

0
113
ICMAB
আইসিএসএবি'র সংবাদ সম্মেলন
ICMAB
আইসিএসএবি’র সংবাদ সম্মেলন

বেশিরভাগ কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা। অন্যান্য স্টেকহোল্ডারের আস্থাও কম। বেশিরভাগ মানুষ মনে করে দেশে টাকা দিলে নিজের মতো করে অডিট রিপোর্ট তৈরি করিয়ে নেওয়া যায়। নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত করার কোনো ব্যবস্থা না থাকার কারণেই এমনটি হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট একাউটেন্ট অব বাংলাদেশ। সংকট উত্তরণে দ্রুততম সময়ের মধ্য ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট (এফআরএ) প্রণয়ন ও ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল গঠনের আহ্বান জানানো হয় এতে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন সংস্থাটির সভাপতি মো. সেলিম বলেন, পৃথিবীর সব দেশে হিসাব মান নিয়ে একটি আলাদা বোর্ড থাকলেও আমাদের দেশে তা নেই। এ কারণে অডিটরদের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বারবার। তাই ‘ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট’ খুব জরুরি।

মো. সেলিম অভিযোগ করেন, আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট প্রণয়নে সরকার উদ্যোগ নিলেও স্বার্থান্বেষী মহলের প্রবল বিরোধিতার কারণে এটি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

তিনি স্বার্থান্বেষী চক্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে মন্ত্রীপরিষদে অনুমোদিত আইনটি অবিকল পাস ও তা কার্যকর করার দাবি জানান।

তিনি বলেন, বিশেষ মহলটি আইনের কিছু কিছু ধারা, বিশেষ করে নজরদারি সংস্থার কাউন্সিলের কাঠামো পরিবর্তনের মাধ্যমে আইনটির মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

বর্তমানে আর্থিক প্রতিবেদনের মান অনেক নিচে নেমে গেছে বলে জানান আইসিএমএবির সাবেক সভাপতি মোজাফর আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট’ এর বিষয়ে একমাত্র আইসিএবি বিরোধিতা করছে। আইন প্রণয়নের বিষয়টি বাতিল করতে না পেরে প্রতিষ্ঠানটি এখন আইসিএমএবিকে বাদ দিতে চাইছে। আর আইসিএমএবিকে বাদ দিয়ে এফআরসি গঠনের চক্রান্ত করছে।

আইসিএমএবির সাবেক সভাপতি ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, আমাদের সমাজে এমন কথা প্রচলিত আছে যে, টাকা দিলে অডিট রিপোর্ট কিনতে পাওয়া যায়। এ অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে হবে। এ জন্য ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট প্রণয়ন জরুরি।

তিনি বলেন, ২০১০ সালে তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদননে মুনাফা ফুলিয়েফাঁপিয়ে দেখানো হয়েছে। মুনাফার ওই তথ্য বিশ্বাস করে বেশিরভাগ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু সেসব তথ্য সঠিক ছিল না। তাই সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো মুনাফার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। এ কারণে বাজার বর্তমানের নাজুক অবস্থায় এসেছে।

মন্ত্রী পর্ষদ সভায় অনুমোদিত আইনটিতে কোনো পরিবর্তন আনতে হলে সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তা করার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আইসএমএবি’র ভাইস-প্রেসিডেন্ট এস.এম সাইফুল, সচিব জামাল আহমেদ চৌধুরী, প্রথম সদস্য রফিক আহমেদ ও অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

জিইউ/