‘পোল্ট্রি শিল্পে বিনিয়োগ ২৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে’

0
54
poltry
জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি কো-অর্ডিনেশন কমিটির গোলটেবিল বৈঠক।

পোল্ট্রি শিল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ ২৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। সরকারের সহযোগিতা পেলে ২০৩০ সাল নাগাদ বিনিয়োগের পরিমাণ হবে ৫০ হাজার কোটি টাকা।

poltry
জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি কো-অর্ডিনেশন কমিটির গোলটেবিল বৈঠক।

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি কো-অর্ডিনেশন কমিটি (বিপিআইসিসি) আয়োজিত ‘মেধাবী ও স্বাস্থ্যবান বাংলাদেশ গঠনে পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি-মিডিয়ার সহযোগিতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে পোল্ট্রি শিল্পের উদ্যোক্তারা এ তথ্য জানান।

বিপিআইসিসি আহবায়ক মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় এক শতাংশ আসে পোল্ট্রি শিল্প থেকে। গার্মেন্টস শিল্পের পর এটিই দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থান খাত। প্রায় ৬০ লাখ মানুষ এই শিল্পের সাথে জড়িত।

কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনে পোল্ট্রি বোর্ড গঠনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রয়োজনে পোল্ট্রি শিল্প সম্পর্কিত তথ্য-সমৃদ্ধ ডাটা ব্যাংক তৈরি করতে হবে।

পোলট্রি ফার্মের উন্নয়নে গবেষক ড. মোয়াজ্জেমের দেওয়া প্রস্তাবনাগুলো হলো-পোলট্রি খাতকে উন্নত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, এর প্রমোশন ব্যবস্থা, এই খাতকে ক্ষুদ্র শিল্পে অন্তর্ভুক্ত করা, মুরগির জন্য সঠিক ও পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যবস্থা করা।

বৈঠকে বিপিআইসিসি নেতারা বলেন, দেশ এখন মুরগির ডিম ও মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। শুধু যে দেশের ডিম ও মাংসের শতভাগ চাহিদা পূরণ করছে তাই নয় গত কয়েক মাস থেকে অতিরিক্ত উৎপাদন হচ্ছে। দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশীয় কোম্পানিগুলো।

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা এবং আগামি দিনের মেধাবী জাতি গঠনে, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে পোল্ট্রি শিল্প এবং গণমাধ্যমের মধ্যে তথ্যের দ্বিমুখী প্রবাহ বাড়ানোর তাগিদ দেন। পোল্ট্রি শিল্পের বিকাশ ও উন্নয়নে ব্র্যান্ড ইমেজ তৈরির উপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

বৈশাখী টেলিভিশনের এডিটর-ইন-চিফ ও প্রধান নির্বাহী মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, পোল্ট্রি একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। তবে এই শিল্প এখনও অবহেলিত। যেহেতু এ খাতটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য চাহিদার সাথে সম্পর্কিত তাই স্বাভাবিক কারণেই গণমাধ্যমের সাথে এই শিল্পের যোগাযোগ আরও বাড়াতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিদেশি সম্ভাব্য বাজার অনুসন্ধানের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের জন্যও এখন থেকে কাজ করা উচিত।

প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হোসেন বলেন, এই খাতের উন্নয়নে গণমাধ্যমের তথ্য-চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে পোল্ট্রি শিল্পকেই।

ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক জাফর সোবহান বলেন, সংবাদপত্র এবং টেলিভিশনের পাশাপাশি অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোও তথ্য প্রবাহের অন্যতম মাধ্যম হতে পারে। দেশীয় শিল্প রক্ষায় সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।

যমুনা টেলিভিশনের হেড অব বিজনেস জাকারিয়া কাজলের সঞ্চালনায় বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সমকালের বিজনেস এডিটর জাকির হোসেন, ৭১ টেলিভিশনের দীপু হাসান, বাংলাভিশনের শ্যামল বাংলার রেজাউল করিম সিদ্দিকী।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থান খাত হিসেবে পোল্ট্রি শিল্পের উন্নয়নে একটি পোল্ট্রি বোর্ড গঠনের দাবি জানান এই শিল্পের উদ্যোক্তারা।

জেইউ/ এমই/