এ কোন ব্রাজিল?

0
75
ব্রাজিলের জালে জার্মানির গোল।
ঘরের মাটিতে ৭-১ গোলের হার। ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে এটি অকল্পনীয়। ব্রাজিলের জন্য বড় ব্যবধানে হারের রেকর্ড এটি। নেইমার ও থিয়াগো সিলভাহীন ব্রাজিলের পরাজয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলেন অনেক ব্রাজিলভক্ত। তবে তারাও এমন হার আশা করেনি। হয়তো, ব্রাজিলবিরোধীরাও এমন হারের কল্পনা করতে পারেনি।

GermanI V Brazil
ব্রাজিলের জালে বল জড়ানোর পর জার্মানির উল্লাস। সেমি-ফাইনালের এই ম্যাচে বার বার এমনই উল্লাস করতে দেখা গেছে জার্মান খেলোয়াড়দের।

জার্মান ও ব্রাজিলের কোচ-খেলোয়াড়েরাও এতো ব্যবধানের জয়-পরাজয়ের হিসেব করে মাঠে নামেননি। কিন্তু কি ঘটল মাঠে? কোথায় গেল বিশ্বকাপের চলতি আসরের সেরা ব্রাজিল ডিফেন্ডস।

১৯৭৫ সালে বেলো হরিজন্তের এই মাঠেই কোপা আমেরিকায় পেরুর কাছে হেরেছিল ব্রাজিল। এরপর দেশের মাটিতে প্রতিযোগিতামূলক কোনো ম্যাচ হারেনি তারা। ৩৯ বছর পর আবার দেশের মাটিতে পরাজয় মানতে হলো স্কলারির শিষ্যদের।

বিশ্বকাপে এটি ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় পরাজয়। আগের বড় হারটি ফ্রান্সের বিপক্ষে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ফ্রান্স তথা জিনেদিন জিদানের কাছে ৩-০ গোলে হারে ব্রাজিল।

বিশ্বকাপে সেমি-ফাইনালে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়-পরাজয়ের রেকর্ডও এটি। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসরের দুটি সেমি-ফাইনালে ৬-১ ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারণ হয়েছিল। ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপের পঞ্চম আসরের সেমি-ফাইনালে একই ব্যবধানে অস্ট্রিয়াকে হারিয়েছিল পশ্চিম জার্মানি। গত ৮৪ বছর ধরে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে এবং ৬০ বছর ধরে পশ্চিম জার্মানি এই রেকর্ডের মালিকানায় ছিল। নিজেদের রেকর্ড নবায়ন করলো জুয়াকিল লো-এর জার্মানি।

স্ট্রাইকার নেইমারের চোটের প্রতিশোধ নিতে ২০তম বিশ্বকাপ সেমি-ফাইনালের প্রথম ম্যাচে জার্মানি মুখোমুখি হয় ব্রাজিল। দুটি হলুদ কার্ড পাওয়ার মাঠে ছিলেন না দলের নিয়মিত অধিনায়ক ও ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভা।

রক্ষণ ও আক্রমণভাগের দুইটি ভরসা মাঠে না থাকায় তুলনামূলক দুর্বল ছিল স্কলারির ব্রাজিল। তাদের অনুপস্থিতিতে নতুন কৌশলে মাঠে নামালেন অন্যদের। পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল খেলোয়াড়দের অবস্থান এবং খেলার ধরণে।

নিয়মিত অধিনায়ক না থাকায় অধিনায়কের বেল্ট নিয়ে মাঠে নামে ডেভিড লুইস। রেকর্ড গড়া হারের দায়টা নিজের মাথায় নিলেন এই ডিফেন্ডার। দলের অন্য খেলোয়াড়দের নিয়ে মাথানত করেই মাঠ ছাড়লেন তিনি। শেষ বাঁশি বাজার পর কান্নায় ভেঙে পড়লেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক লুইস ও তার সতীর্থরা। কান্নায় ভেঙে পড়া লুইসকে এগিয়ে নিতে মাঠে ছুটে গেলেন দলের নিয়মিত অধিনায়ক সিলভা।

দেশের মানুষকে খুশি করতে গিয়ে কান্নায় ভাসালেন লুইস। এমন পরাজয়ে সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে লুইস বলেন, আমি দেশের মানুষের হাসিমুখ দেখতে চেয়েছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত আমরা পারিনি। আমি ক্ষমা চাই।

নিজেদের চরম ব্যর্থতার পরও প্রতিপক্ষকে কৃতিত্ব দিয়ে লুইস বলেন, তারাই সেরা ছিল। ভালো প্রস্তুতি নিয়েছিল; ভালো খেলেছে। ছয় মিনিটের মধ্যে আমাদের জালে চার বার বল ঢুকিয়েছে তারা। আমাদের জন্য এটা খুবই কষ্টের দিন।

জার্মানির কাছে রেকর্ড এই হারের দায় নিলেন ব্রাজিলের কোচ লুইস ফেলিপে স্কলারি। তিনি দাবি করেন, সেরা চেষ্টাই করেছিল লুইস ও তার সতীর্থরা। কিন্তু দুর্দান্ত জার্মান দলের সঙ্গে ব্যর্থ হয়েছে তারা।

ব্রাজিলের জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে স্কলারি বলেন, আমি দুঃখিত। আমরা ফাইনালে পৌঁছুতে পারিনি। তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জয়ের চেষ্টা করবো।

৭-১ গোলের এই হারের কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি ব্রাজিলের গোলরক্ষক জুলিও সেজার। তিনি বলেন, অবিশ্বাস্য এই হার সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। প্রথম গোলটির পর আমরা চোখে অন্ধকার দেখি। এটা অপ্রত্যাশিত ছিল। এর ব্যাখ্যা করা কঠিন।

সূত্র: ফিফা.কম, ডেইলি মেইল, রয়টার্স
এমই/