‘দক্ষিণ তালপট্টি ভারতে’

0
97
talpotti
মানচিত্রে দক্ষিণ তালপট্টির অবস্থান।
talpotti
মানচিত্রে দক্ষিণ তালপট্টির অবস্থান।

বহুল আলোচিত দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ এলাকা বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার বাইরে পড়েছে বলে রায় দিয়েছে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত (পিসিএ)।

এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করারও সুযোগ নেই।

৭০’র ঝড়ের পর সাতক্ষীরার দক্ষিণে সৃষ্ট এই দ্বীপের মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে ভারতের সঙ্গে।

মঙ্গলবার সমুদ্রসীমার রায় প্রকাশ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পিসিএ’তে নিযুক্ত বাংলাদেশের এজেন্ট ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মণি বলেন, তালপট্টি এখন নেই। তালপট্টি যে জায়গায় ছিল এ সীমানাটি ভারতের দিকে পড়লেও এর নিচের (দক্ষিণে) বিশাল জায়গায় আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তালপট্টির বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল কোনো সিদ্ধান্ত দিয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের ডেপুটি এজেন্ট ও মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব:) মো. খুরশেদ আলম বলেন, আপনারা জানেন-এটা একটা বালির দ্বীপ। ১৯৭০ সালে যে সাইক্লোন হয়েছিল, তখন তা উঠেছিল। পরে ১৯৮৫ সালে উড়িরচরে যে সাইক্লোন হয়, তাতে তা বিলীন হয়ে যায়। সে সময় থেকে আর এটা আর নেই। ম্যাপে তো দেখতেই পাচ্ছেন আপনারা।

তিনি বলেন, ১৯৮৯ থেকে দ্বীপ বলে কিছু নেই। ২০০৮ সালে ভারতও বলেছে, নিউমুর ইজ নো মোর।

তিনি আরও বলেন, ১৯৪৭ সালের রেডক্লিফ লাইন মেনে এ সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই মানচিত্রেও তালপট্টি বাংলাদেশে নেই। আগেই এসব মানচিত্র সংশোধন করা প্রয়োজন ছিল।

খুরশেদ আলম বলেন, আশি সালের আগে যখন দ্বীপ ছিল, তখন দাবি করেছি। এখন তো দ্বীপ নেই। আমাদের কোনো ম্যাপে প্রমাণ করতে পারিনি এটা আমাদের। আমরা ২০১০ সাল থেকে ম্যাপ সংশোধন করেছি।

প্রসঙ্গত, ১৯৭০ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের পর হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনায় একটি নতুন দ্বীপের উৎপত্তি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ল্যান্ড রিসোর্স স্যাটেলাইট ১৯৭৪ সালে জানায়, দ্বীপটিরর আয়তন প্রায় আড়াই হাজার বর্গমিটার, যা ভাটার সময় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ পক্ষ থেকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সীমানা বিবেচনা করে দ্বীপটির নামকরণ করে দক্ষিণ তালপট্টি।

ভারতও এর অধিকার দাবি করে নাম দেয় পূর্বাশা বা নিউ মুর।

বিরোধ মেটাতে ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ একটি যৌথ সমীক্ষার প্রস্তাব দিলেও ১৯৮১ সালে ভারত সামরিক বাহিনী পাঠিয়ে দ্বীপটিতে পতাকা উড়িয়ে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে।

পরবর্তীতে এই নিয়ে বহু টানা-পোড়েন হয়।

নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে তালপট্টি সমুদ্রগর্ভে হারিয়ে যায়।

এই দ্বীপটির অবস্থান ছিল ২১ ডিগ্রি ৩৭ মিনিট উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৯ ডিগ্রি ৮ মিনিট পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।

পিসিএ’র রায় অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারতের সমুদ্রসীমা শুরু হবে ২১ ডিগ্রি ৩৮ মিনিট ৪০.২ সেকেন্ড উত্তর অক্ষাংশ, ৮৯ ডিগ্রি ৯ মিনিট ২০ সেকেন্ড পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে।