জনস্বার্থে সচেষ্ট থাকার নির্দেশ ডিসিদের

0
51
Primeminister Sekh Hasina
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল ধরনের ভয়-ভীতি ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে আইনানুগ দায়িত্ব পালন এবং জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণে সচেষ্ট থাকতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছেন।

Primeminister Sekh Hasina
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-ফাইল ছবি

তিনি বলেন, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনারা সাধারণ মানুষের কাছাকাছি অবস্থান করেন।

সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসস জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) তিন দিনব্যাপী সম্মেলন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি, কেবল সরকারি কর্মচারি হিসেবে নয়, একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে আপনারা জনকল্যাণে আত্মনিয়োগ করবেন এবং এ লক্ষ্যে আপনার সহকর্মীদেরকেও উদ্বুদ্ধ করবেন।

জেলা প্রশাসকদের ২৪টি বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেওয়ার সময় তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে তাদের নির্দেশ দেন তিনি।

সরকারের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো মাঠপর্যায়ে যথাসময়ে ও যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয় কি না নিশ্চিত করতে এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশে নেতৃত্ব দিতেও তাদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনের সর্বক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

সরকারি সেবা গ্রহণকালে সাধারণ মানুষ যাতে কোনভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনায় শিকার না হন সেদিকে লক্ষ্য রাখতে ও গণশুনানি জোরদার করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দূর করে রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনের সর্বক্ষেত্রে শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকদের নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পাচার, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার, যৌতুক, ইভটিজিং এবং বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি নিরোধে কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে প্রত্যেক গৃহহীন নাগরিকের আশ্রয় দেওয়া। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে গৃহহীনদের বাড়ি প্রদানে পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শেখ হাসিনা মত প্রকাশ করেন, শিক্ষা খাতে ব্যয় শুধুমাত্র ব্যয় নয়; এটি এক ধরনের বিনিয়োগ। আর সরকারের পক্ষে সম্ভব হলে দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা ফ্রি করে দেওয়া যাবে।

বিনামূল্যে বই প্রদান, বৃত্তি, গরীব বাবা-মাকে আর্থিক সহযোগিতা এবং দুপুরের খাবার চালুসহ শিক্ষা বিকাশে সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয় ত্যাগের হার কমিয়ে আনতে এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা সহজলভ্য করতে সরকারি -বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর দাম জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শেখ হাসিনা পবিত্র রমজান মাসে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধির যে কোনো অপচেষ্টা দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল জলিল, মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক জি.এস.এম. জাফরুল্লাহ, রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মোস্তফা কামাল, পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক এম. সালাহউদ্দীন বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রীবর্গ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।