ফেরার লড়াই চলবে: তসলিমা

0
44
Taslima-NASREEN
তসলিমা নাসরিন (ফাইল ছবি)
Taslima-NASREEN
তসলিমা নাসরিন (ফাইল ছবি)

দেশে ফেরার অধিকার অর্জনের লড়াই থামবে না বলে জানিয়েছেন ভারতে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

সোমবার বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বার বার প্রত্যাখ্যাত হলেও বাংলাদেশি পাসপোর্ট নবায়নের জন্য চেষ্টা চালিয়েযাবেন তিনি।

তসলিমা বলেন, যতদিন বাঁচব ততদিন আমার দেশে ফেরার লড়াই চলবে। হয়তো সেখানে থাকব, হয়তো থাকব না – কিন্তু মত প্রকাশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্যই আমি আবার পশ্চিমবঙ্গে ফিরতে চাই, বাংলাদেশে ফিরতে চাই!

তার অভিযোগ, ধর্মান্ধ একটা ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর ভয়েই শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার কেউই তাকে এতদিন দেশে ফিরতে দেয়নি।

তসলিমা বলেন, তাদের মধ্যে হাজারটা বিষয়ে চুলোচুলি থাকতে পারে, কিন্তু আমার ব্যাপারে তাদের মধ্যে কোনও মতভেদ নেই।

প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো কেন তার প্রতি বিরোধিতায় এককাট্টা এমন প্রশ্নের জবাবও আছে তার কাছে। তার মতে, তাকে তাড়িয়ে দিয়ে দলগুলো দুটো বাড়তি মুসলিম ভোট পেতে চায়।

তসলিমা আরও জানান, নিয়ম করে কিছু দিন পর পরই মেয়াদ ফুরোনো পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনে হাজিরা দেওয়ার পরও দূতাবাস তাকে বার বার ফিরিয়ে দেয়। লিখিতভাবে কখনও কিছু জানায়ও না কেন তার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে।

তসলিমার অভিমত, দূতাবাসের কর্মীরা সহানুভূতিশীল হলেও সরকারের নির্দেশের বাইরে যাওয়ার এক্তিয়ার তো তাদের নেই।

তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গেও মমতা ব্যানার্জি যদিও সিপিএমের সব বিষয়ে প্রতিবাদ জানান – কিন্তু তসলিমা নাসরিনের প্রশ্নে সিপিএমের সঙ্গে তার কোনও বিরোধ নেই।

বিদ্রোহী রুশ লেখক আলেকজান্ডার সলঝেনিৎসিনও দেশে ফিরতে পেরেছিলেন ষোলো বছর পর। কিন্তু তসলিমা নাসরিন অতটা আশাবাদী নন, কারণ তার বিশ্বাস বাংলাদেশে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীগুলোর দাপট কমছে না, বাড়ছে।

তবে ভারত সরকার চাইলে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারে বলে মনে করছেন তসলিমা। কিন্তু বারবার আর্জি জানানোর পরেও ভারত সরকার তার আবেদনে সাড়া দেয়নি।

তবে ভারতের নতুন সরকারের ব্যাপারে আশাবাদী তসলিমা। ভারতের সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ভারত সরকার যদি আমার প্রসঙ্গ বাংলাদেশের কাছে তোলেন তাহলে আমি খুবই কৃতজ্ঞ থাকব। ভারত আমাকে আশ্রয় দিয়েছে, তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে কিছুটা হলেও মর্যাদা দিচ্ছে – শুধু সে জন্যই তাদের বাংলাদেশকে আমাকে ফিরিয়ে নেওয়ার কথাটা বলা দরকার।

তসলিমা আশা, তিস্তা বা সীমান্ত চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ নন ঠিকই – কিন্তু বাক-স্বাধীনতার অধিকারও কিছু কম গুরুত্বপূর্ণ নয়, আর শুধু সে জন্যই ভারত একদিন তার হয়ে মুখ খুলবে।

প্রসঙ্গত, বিতর্কিত লেখার জন্য ১৯৯৪’র মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন তসলিমা নাসরিন। সুইডেন-আমেরিকা-ফ্রান্স-কলকাতা নানা জায়গা ঘুরে তিন বছর ধরে তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছেন।