জব্বারের অনুপস্থিতিতেই বিচার শুরুর নির্দেশ

0
48
ফাইল ছবি

ICTজাতীয় পার্টির সাবেক নেতা পিরোজপুরের আবদুল জব্বারকে পলাতক ঘোষণা করে তার অনুপস্থিতিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

এছাড়া ২০ জুলাই অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

ট্রাইব্যুনালের আদেশে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জব্বারকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আইন অনুযায়ী, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও ট্রাইব্যুনালে হাজির হননি তিনি। এ জন্য তাঁকে পলাতক ঘোষণা করা হলো। তাঁর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবুল হাসানকে নিয়োগ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। তিনি রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে আসামিপক্ষে আইনি লড়াই চালাবেন।

গত রোববার আব্দুল জব্বারের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারিক কার্যক্রম কিভাবে চলবে, সে বিষয়ে আদেশের জন্য ৮ জুলাই দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল-১

এর আগে গত ১২ মে তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনীত পাঁচটি অভিযোগ আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। তবে তাকে এখনো গ্রেপ্তার সম্ভব হয়নি। এ আসামি যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে গেছেন বলে তদন্ত সংস্থা সুত্র জানায়। গত ১১ মে এ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন।

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ৫টি অভিযোগে আনুষ্টানিক অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- হত্যা, গণহত্যা, ধর্মান্তকরণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ৪৬ জনকে। এর মধ্যে ৪০ জন ঘটনার এবং ৬ জন জব্দ তালিকার সাক্ষী রয়েছে।

আনীত পাঁচ অভিযোগের মধ্যে ১ম অভিযোগে বলা হয়েছে, জব্বার মুক্তিযুদ্ধের সময় পিরোজপুরের মঠবাড়ীয়ার ফুলঝড়িতে দুইজন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেন। এছাড়া নাথপাড়া ও কুলুপাড়ার শতাধিক বাড়িতে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করেন।

২য় অভিযোগে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ফুলঝুড়িতে একজনকে হত্যা এবং ৩৬০টি বাড়ি-ঘর লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করেন। ৩য় অভিযোগে বলা হয়েছে, নলিতে ১১ জনকে গণহত্যা ছাড়াও ৬০টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করেন। ৪নং অভিযোগে বলা হয়েছে, ফুলঝড়িতে প্রায় দুইশত নিরস্ত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের লোককে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করেন জব্বার। ৫ম অভিযোগে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় জব্বার আঙ্গুলকাটা এবং মঠবাড়ীয়া থেকে ৩৭ জনকে আটক, মালামাল লুণ্ঠন, অপহরণ, নির্যাতন, ১ জনকে গুরুতর জখম এবং ২২ জনকে হত্যা করেন।

মামলাটি তদন্ত করেন তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) মো. হেলাল উদ্দিন। জব্বার ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সময় সময় পাক বাহিনীর সহযোগী মঠবাড়ীয়া থানা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান।