মক্কায় যমযমের পানি সঙ্কটের অভিযোগ

0
96
saudi-pilgrims
যমযম কূপের পানি সংগ্রহ করছেন হাজিরা- ছবি আরবনিউজের
saudi-pilgrims
যমযম কূপের পানি সংগ্রহ করছেন হাজিরা- ছবি আরব নিউজের

যমযম কূপের বোতলজাত পানি সঙ্কটের অভিযোগ তুলেছেন ওমরাহ হজ পালনরত বিদেশি ও দর্শনার্থীরা।

সোমবার সৌদি আরবের প্রভাবশালী পত্রিকা আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ওমরাহ পালনে বিভিন্ন দেশ থেকে দলে দলে যোগ দিচ্ছেন মুসলমানরা। কিন্তুু মক্কায় যমযমের বোতলজাত পানি পেতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

কাবা শরীফের কাছে বোতলজাত পানি বিক্রির একটিমাত্র পয়েন্ট থাকাও এই সঙ্কটের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এ কারণে কালোবাজারে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে যমযমের বোতলজাত পানি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, যমযম কূপে রয়েছে পর্যাপ্ত পানি। কিন্তু হাজিরা যমযমের বোতলজাত পানি সংগ্রহ করতে পারছেন না । কারণ এই পানি শুধু মক্কা জেলার একটি বিক্রয় পয়েন্ট থেকেই সংগ্রহ করতে হয়; যেটি স্থানীয়দের কাছে পরিচিত হলেও বিদেশিদের জন্য সুগম নয়; তেমন পরিচিত নয় জেদ্দাসহ সৌদি আরবের অন্যান্য এলাকার বাসিন্দাদের কাছেও।

ওমরাহ করতে যাওয়া ভারতের মুহাম্মদ আবিদ বলেন, “হোটেলে নেওয়ার জন্য এক বোতল পানিও সংগ্রহ করতে পারিনি। কাবা শরীফে যমযমের কূপ থেকে বোতলে পানি সংগ্রহের চেষ্টা করতে গিয়ে বিব্রত হয়েছি। কারণ সেখানে আমার পেছনে অনেক মানুষ অপেক্ষায় ছিলেন পানি পানের জন্যই।”

ওমরাহ পালন করতে যাওয়া মিসরের সা’আদ আল বাস্তাওয়েসি বলেন, আমি যমযমের বোতলজাত পানি বাড়িতেও নিয়ে যেতে চাই; কিন্তু কোনোভাবেই পানি কিনতে পারিনি।

যমযম কূপের বোতলজাত পানি সঙ্কটের ব্যাপারে একই অভিযোগ করেছেন আরো কয়েকজন হাজি।

এ ব্যাপারে প্রেসিডেন্সি অব দ্য টু হলি মস্কস অ্যাফেয়ার্সের  যমযম ওয়াটার ডিপার্টমেন্টের পরিচালক আহমেদ আল মাতরাফি জানিয়েছেন, শুধু গ্রান্ড মস্কে (কাবা শরীফে) প্রতিদিন পানি লাগে ১২০০ কিউবিক মিটার। আর আশেপাশে খরচ হয় ৪৮৬ কিউবিক মিটার। পাশাপাশি ৩০০ কিউবিক মিটার পানি মদিনায় মসজিদে নববীতে সরবরাহ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পানির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকে যমযম ফিলিং স্টেশন। ন্যাশনাল ওয়াটার কোম্পানি- এনডব্লিউসির পরিচালিত এই পয়েন্টটি স্থানীয়দের কাছেই বেশি পরিচিত।

মক্কায় কর্মরত পাকিস্তানি শ্রমিক মুহাম্মদ সালিম জানান, ওই স্টেশনে তিনি পানি কেনার জন্য গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে কিছু দালালের কারণে তাকে ডাবল দামে পানি কিনতে হয়েছে; যা অত্যন্ত বিস্ময়ের।

এনডব্লিউসি ১০ লিটারের বোতলজাত পানির কুপন  বিক্রি করে ৫ রিয়েলে। সংস্থাটি প্রত্যেক সৌদি নগরিকের জন্য মাসে বরাদ্দ রাখে ১০ লিটারের ২০ জার পানি। আর বিদেশিদের জন্য রাখে ১০ জার। কিন্তু রমজান ও হজের মৌসুমে এই কোটা কমে যায়।

সালেহ এম সুলায়মানি নামে এক সৌদি নাগরিক সতর্ক করে বলেছেন, কাবা শরীফ এবং পাবলিক প্লেস ও পার্কিং এলাকায় বিক্রির পয়েন্ট কম থাকায় যমযমের পানি নিয়ে কালোবাজারি বেড়ে চলেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মক্কা পৌরসভা ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে হাজার হাজার ভুয়া পানির বোতল উদ্ধার করেছে।

হাজিরা মক্কার বাইরে জেদ্দার বাদশা আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও মদিনার বিমানবন্দর থেকে ক্রয় করতে পারেন। এর আশপাশের কিছু দোকানে ৫ লিটারের বোতল কিনতে পাওয়া যায়।

ভারতের অভিবাসী মুহাম্মদ ইরশাদ আলী জানান, অনেক কষ্টে জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে যমযমের ১০ লিটারের পানির বোতল ৭ গুণ বেশি দিয়ে (৩৫ রিয়েলে) কিনেছেন তিনি।