বছরের সর্বোচ্চ লেনদেন বস্ত্র খাতের

0
62
Textile Sector
লুজারে বস্ত্র খাত
Textile Sector
এক বছরে বস্ত্র খাতের সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে

বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলো সর্বোচ্চ লেনদেন করেছে গত এক বছরে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এই খাতের লেনদেন হয়েছে ১৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। যা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ২০টি খাতের মধ্যে গত সর্বোচ্চ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

তথ্য পর্যালোচনা করে জানা যায়, ২০১২-১৩ অর্থবছরে বস্ত্র খাতের লেনদেন ছিল ১৩ দশমিক ৩১ শতাংশ। ২০১৩-১৪ সমাপ্ত অর্থবছরে বস্ত্র খাতে মোট ৪৩৩ কোটি ১০ লাখ ৭ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার বাজার মূল্য ছিল ১৫ হাজার ৪২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

এর পরের স্থানে রয়েছে প্রকৌশল খাত । ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এ খাতে লেনদেন বেড়েছে ৪ দশমিক ০২ শতাংশ। সমাপ্ত বছরে এ খাতে লেনদেন হয়েছে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। যা ২০১২-১৩ অর্থবছরে ছিল ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।

আলোচ্য বছরে প্রকৌশল খাতে মোট ১৮০ কোটি ১৬ লাখ ১০ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার বাজার মূল্য ছিল ১২ হাজার ৯৬৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

এ প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ অর্থসূচককে বলেন, গত এক বছরে পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের নতুন কোম্পানি বেড়েছে। এর ফলে এ খাতে বিনিয়োগকারীদের চাহিদা বেড়েছে। আর প্রকৌশল খাতে ব্যবসা তুলনামূলক ভালো হওয়ায় এ খাতেও লেনদেন বেড়েছে।

ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন বেড়েছে ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে এ খাতে লেনদেন হয়েছে ১০ দশমিক ৯২ শতাংশ। যা ২০১২-১৩ অর্থবছরে ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। সমাপ্ত বছরে ওষুধ খাতে মোট ১৬৩ কোটি ৪২ লাখ ৭ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার বাজার মূল্য ছিল ১২ হাজার ২৯১ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

এছাড়া সিমেন্ট খাতে ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে লেনদেন হয়েছে ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ। যা ২০১২-১৩ অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। সমাপ্ত বছরে এ খাতে মোট ৭০ কোটি ১৫ লাখ ৪৫ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার বাজার মূল্য ছিল ৬ হাজার ৬৭৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

এদিকে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে লেনদেন হয়েছে ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। যা আগের বছরে ছিল ৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। সমাপ্ত বছরে এ খাত মোট ৩২ কোটি ৭৫ লাখ ৬১ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার বাজার মূল্য ছিল ৭ হাজার ৪৯৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

২০১৩-১৪ অর্থবছরে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের লেনদেন বেড়েছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। যা আগের বছরে ছিল ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ খাত মোট ৭৯ কোটি ৪৮ লাখ ৫৪ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার বাজার মূল্য ছিল ৪ হাজার ৯৭৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

বিমা খাতে লেনদেন হয়েছে ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ। যা আগের বছরে ছিল ৪ দশমিক ৮১ শতাংশ। এ খাত মোট ৯৪ কোটি ৭০ লাখ ৪ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার বাজার মূল্য ছিল ৬ হাজার ৪২৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

এছাড়া সমাপ্ত অর্থবছরে পাট খাতের দশমিক ৮ শতাংশ, কাগজ খাতের দশমিক ২ শতাংশ, সেবা ও অবাসন খাতের দশমিক ৯৩ শতাংশ, ট্যানারী খাতের ১ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং বিবিধ খাতের ৩ দশমিক ২২ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। এই খাতগুলোর লেনদেন আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে।

অন্যদিকে লেনদেন কমেছে ৮ টি খাতের। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের লেনদেন আগের বছরের তুলনায় কমেছে ২ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ খাতে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। যা আগের বছরে ছিল ১৫ দশিমক ৮৯ শতাংশ।

এছাড়া ব্যাংক খাতের ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ, ব্যাংক বহিভূত আর্থিক খাতের ৪ দশমিক ৭০, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ২ দশমিক ৭৭, আইটি খাতের ১ দশমিক ১৯ শতাংশ, সিরামিক খাতের দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং টেলিকমিউনিকেশন খাতের ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ লেনদেন হয়েছে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে।

অর্থসূচক/এসএ/এমআরবি/