স্থবির হয়ে আছে বেসিক ব্যাংকের তিন হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অনুসন্ধান

Acc & Basic Bank

Acc & Basic Bankস্থবির হয়ে আছে­­ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংকের বিরুদ্ধে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার ঋণ অনিয়মের অনুসন্ধান কাজ। কমিশনের সংশোধিত নতুন আইন ও অনুসন্ধান কর্মকর্তাদের অন্য কাজে ব্যস্ত থাকাই এত বড় ঋণ জালিয়াতির ঘটনার অনুসন্ধানের অগ্রগতি নেই বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান কমিটি।

দুদক সূত্র জানায়, বেসিক ব্যাংকের চারটি শাখা থেকে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক বছর আগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে কিছু কাগজপত্র সংগ্রহ এবং কয়েকটি টিম পরিবর্তন ছাড়া কার্যত কোনো কাজই করতে পারেনি দুদক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, গত বছরের অক্টোবরে  এ অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করলেও অজানা কোনো এক কারণে দু’মাস পরই বেসিক ব্যাংকের অভিযোগটি ভুয়া আখ্যায়িত করে অনুসন্ধান বন্ধ করে দেয় কমিশন। আর এরপর থেমে যায় দুর্নীতির এতো বড় একটি ঘটনা। তবে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে আবার অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। অনুসন্ধানের জন্য বেশ কয়েক বার অনুসন্ধান টিমও পুনর্গঠন করা হয়। কিন্তু কোনো টিমই কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে না। এর পিছনে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে সরকারের সখ্যতা থাকাকেই মূল কারণ মনে করেন এ কর্মকর্তা।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকের শান্তিনগর শাখা থেকে গত বছরের প্রথম ১০ মাসে প্রায় নয়শ’ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়। এসব ঋণের বিপরীতে মর্টগেজও রাখা হয়নি। নিয়ম ভেঙে ঋণ দেওয়ায় কয়েকজন বড় গ্রহিতা এরই মধ্যে স্পেশাল মেনশন অ্যাকাউন্টে (এসএমএ) নাম লিখিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, খেলাপি ঋণের তথ্য গোপনসহ কোনো কোনো ক্ষেত্রে একক ঋণ গ্রহিতার সর্বোচ্চ সীমাও লঙ্ঘন করা হয়।

একইভাবে গুলশান শাখা থেকে শাখা ব্যবস্থাপক শিপাইর আহমেদ অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ দিয়েছেন। অনিয়মের দায়ে তাকে শাখা থেকে প্রত্যাহার করে বর্তমানে প্রধান কার্যালয়ে যুক্ত করা হয়েছে। এ শাখা থেকে ১৬টি নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা ঋণ প্রদান, নয়টি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে অনুমোদনহীন ঋণ সীমা এবং ছয়টি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এলসি খুলে বিদেশে অর্থ পাচার করার সুযোগ তৈরি করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ভুয়া বন্ধক দেখিয়ে এ শাখা থেকে আরও ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

আর ব্যাংকটির দিলকুশা শাখা থেকে গোলাম ফারুক ম্যানেজার থাকাকালে ১৪০০ কোটি টাকার ঋণ অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বেলায়েত নেভিগেশনের নামে ৭০ কোটি, আদিব ডায়িং ৫৫ কোটি, ওয়েলটেক্স ৪২ কোটি, ওয়েল সোয়েটার্স ২৫ কোটি, সৈয়দ কনস্ট্রাকশন ৭০ কোটি, বে-নেভিগেশন ৫৫ কোটি, আলোটেক ২৮ কোটি, অ্যাপোলো কনস্ট্রাকশন ৬৫ কোটি ও ইমারেল্ড কোম্পানির নামে ৫৫ কোটি টাকার ঋণে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক মো.মনিরুজ্জামান বলেন, বেসিক ব্যাংকের এ বিশাল ঋণ জালিয়াতির বিষয়টির অনুসন্ধান বন্ধ হয়ে যায়নি। বিভিন্ন কারণে কয়েকটি অনুসন্ধান টিম পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে উপপরিচালক সৈয়দ ইকবাল হাসানের নেতৃত্বে চার সদস্যেরে একটি অনুসন্ধান কমিটি বেসিক ব্যাংকের ঋণ অনিয়মের অনুনসন্ধান করছে। আশা করছি এ কমিটি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দিতে পারবে।

অনুসন্ধান দলের প্রধান সৈয়দ ইকবাল হাসান জানান, বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ জালিয়াতির বিষয়টি নিয়ে অনেক বেশি সময় দিতে হয়েছে তাই বেসিক ব্যাংকের ঘটনাটি জোরালোভাবে অনুসন্ধান করা যায়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তথ্য উপাত্ত চাইলে তারা অনেক বিলম্ব করেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া নথি-পত্র বর্তমানে আমাদের হাতে রয়েছে। আমরা বেসিক ব্যাংকের নিকট থেকে নথি-পত্র তলব করেছি সেগুলো হাতে পেলেই বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া নথি-পত্রের সাথে মিলিয়ে অনুসন্ধান শুরু করবে দুদক।

নয়ন/এআর