মুনাফায় কারসাজি,তবু বাড়ছে কাসেম ড্রাইসেলসের শেয়ারের দাম

sunlightহিসাব কারসাজির বড় অভিযোগ সত্ত্বেও বেড়ে চলেছে কাসেম ড্রাইসেলসের শেয়ারের দাম। গত দুই সপ্তাহে এ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় ২১ শতাংশ। দামের পাশাপাশি শেয়ারের লেনদেনও বেড়েছে ব্যাপক হারে। লোকসানি কোম্পানিকে কৃত্রিমভাবে লাভজনক দেখানো এ কোম্পানির শেয়ার দিন দিন হয়ে উঠছে ঝুঁকিপূর্ণ।

এদিকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) হিসাব কারসাজির দায়ে কোম্পানির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংস্থার করপোরেট ফিন্যান্স বিভাগ থেকে একটি প্রতিবেদন এনফোর্সমেন্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঢাকা স্টক এক্সেচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, গত ১ ডিসেম্বর কাসেম ড্রাইসেলসের শেয়ারের দাম ছিল ৩৪ টাকা। গত রোববার তা বেড়ে হয় ৪১ টাকা।

উল্লেখ, অভিযোগ রয়েছে সর্বশেষ ২০১৩-১৩ হিসাব বছরে কোম্পানিটি লোকসান করলেও কারসাজির মাধ্যমে একে লাভজনক দেখানো হয়েছে।

কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুসারে, আলোচিত বছরের এর শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে এক টাকা ১৭ পয়সা। কিন্তু বাংলাদেশ হিসাব মান (বিএসএ)অনুসরণ করা হলে কোম্পানির কোনো মুনফাই থাকে না। উল্টো শেয়ার প্রতি লোকসান দাঁড়ায় ৪৭ পয়সা। কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে বার্ষিক হিসাবে নিট মুনাফা বাড়িয়ে দেখিয়েছে বলে মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে ইতোমধ্যে কোম্পানিকে চিঠি দেয়।কিন্তু কোম্পানির উত্তর সন্তোষজনক না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন এনফোরসমেন্ট বিভাগে পাঠায়।

উল্লেখ, গত ৩০ জুন কাসেম ড্রাইসেলসের হিসাব বছরশেষ হয়।এর মধ্যে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে কোম্পানিটির।

কোম্পানির নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ইনকাম স্টেটমেন্ট বা আয় বিবরনীতে তিন কোটি ৫৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিট মুনাফা দেখানো হয়েছে।আলোচিত বছরে কোম্পানি ১২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা পরিচালন মুনাফা করেছে।সেখান থেকে প্রশাসনিক ব্যয়,পণ্য বিপণন ও বিতরণ ব্যয়,ব্যাংক ঋণের সুদ,আয় কর ইত্যাদি বাদ দিয়ে ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা নিট মুনাফা হয়েছে বলে হিসাবে দেখিয়েছে কাসেম ড্রাইসেলস।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অব একাউন্টিং-এর ১৬ ধারা অনুসারে,নিট মুনাফা নির্ধারণের আগে আয় থেকে প্রযোজ্য সব ধরনের অবচয় বাদ দিতে হয়।কোম্পানিটি তার বার্ষিক প্রতিদেনের পরিশিষ্টে (পরিশিষ্ট-এ) ৫ কোটি টাকা অবচয়ের হিসাব দেখিয়েছে।কিন্তু আয় বিবরনীতে তা দেখানো হয়নি।সেখানে অবচয় আড়াল করা হয়েছে।

কোম্পানির পরিচালন মুনাফা থেকে ওই অবচয় বাদ দিলে নিট মুনাফা হয় ঋণাত্মক। অর্থাৎ মুনাফার পরিবর্তে এটি লোকসানি কোম্পানিতে পরিণত হয়।নিট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৪৪৪ লাখ টাকা।বর্তমানে কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা ৩ কোটি ৪ লাখ।এ হিসেবে শেয়ার প্রতি লোকসান দাঁড়ায় ৪৭ পয়সা।

গত মাসে এ বিষয়ে অর্থসূচকে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। রিপোর্টের জন্য বক্তব্য জানতে  যোগাযোগ করা হলে কাসেম ড্রাইসেলসের কোম্পানি সচিব জাহাঙ্গীর আলম প্রথমে ফোনে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি তাদের অফিসে গিয়ে আলোচনা করার পরামর্শ দেন।