চট্টগ্রামের রাস্তায় নৌকা

0
171
Chawkbazar kB Aman Ali Road
টানা জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রামের চকবাজার কে.বি. আমান আলী রোড
Chawkbazar kB Aman Ali Road
টানা জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রামের চকবাজার কে.বি. আমান আলী রোডে নৌকা দিয়ে কর্মস্থলে যেতে দেখা গেছে

পাঁচ দিনেও ভয়াবহ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলেনি বন্দর নগরী চট্টগ্রামের।

মঙ্গলবার আগের দিনের তুলনায় পানি কিছুটা কমলেও পুরো জলাবদ্ধতা দূর হয়নি। দুপুর পর্যন্ত বন্দরনগরীর বিভিন্ন স্থানে যথেষ্ট পানি ছিল। সে পানিতে ভাড়ায় নৌকাও চলেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকালে নগরীর কর্মব্যস্ত ও বাণিজ্যিক এলাকা চকবাজারে ছিল হাঁটু পানি। ইঞ্জিনচালিত কোনো যানবাহন রাস্তায় দেখা যায়নি। গন্তব্যে পৌঁছানোর ভরসা রিকশা; তাও সংখ্যায় খুবই কম। আর ভাড়া কয়েকগুণ বেশি। তবে জলাবদ্ধতা শুরু হওয়ার দুই দিন পর কর্মব্যস্ত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসা মাঝিদের মঙ্গলবারও দেখা গেছে বৈঠা হাতে।

সকালে চকবাজারের কে.বি. আমান আলী রোড়ের যাত্রীদের পারাপার করছিলেন তারা।

চকবাজারের গুলজার টাওয়ারের ফ্রিডম টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী হারুন জানান, টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে প্রথম দুই দিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। প্রতিদিন তিন-চারগুণের বেশি গাড়ি ভাড়া দিয়ে বাসা থেকে এসেও দোকান খুলতে পারিনি।

 তিনি জানান, গত দুই দিন আগে দোকান চালু করা হলেও কোনো ক্রেতা নেই। দুপুর ১২টা পর্যন্ত কোনো ক্রেতা আসেনি। পুরো মার্কেট এমনকি চকবাজার বাণিজ্যিক এলাকার সব ব্যবসায়ী অলস সময় পার করছেন।

 ষোলশহরের চট্টগ্রাম শপিং কমপ্লেক্সের সমাগম’র স্বত্বাধিকারী চৌধুরী শহীদুল্লাহ বলেন, শপিং কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে এই মার্কেটে ব্যবসা করছি। নগরীতে চার-পাঁচ দিন ধরে জলাবদ্ধতা আমি এই প্রথম দেখলাম। নিচ তলার প্রতিটি দোকানে দুই দিন ধরে পানি ছিল। আমাদের প্রতিটি দোকানের প্রচুর মালামাল নষ্ট হয়েছে পানিতে।

তিনি জানান, আসন্ন রমজান উপলক্ষে নতুন করে মালামাল আনা হয়েছে। অনেক পণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। আবার নতুন করে পণ্য ক্রয় করতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হবে।

চৌধুরী শহীদুল্লাহ জানান, শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষাসহ বছরের প্রতিটি দিন শপিং কমপ্লেক্সে ক্রেতারা ভিড় করেন। জলাবদ্ধতার কারণে গত পাঁচ দিনে মার্কেটে ক্রেতা উপস্থিত হতে পারেনি। মঙ্গলবারও ক্রেতার উপস্থিতি তেমন নেই। গল্প-গুজব করেই সময় পার করছেন ব্যবাসায়ীরা। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় পানি থাকায় দোকানমালিক এবং সেলসম্যানরা আসতে পারেননি। একারনে প্রচুর দোকান বন্ধ রয়েছে।

গতকাল সোমবার বিকেল পর্যন্ত টানা বর্ষণ হয়েছে চট্টগ্রামে। এরপর বৃষ্টির পরিমাণ কমতে শুরু করে; কমতে থাকে জলাবদ্ধতাও। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৭৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিয়ে আরও দুটি রিপোর্ট:

বন্দরনগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন প্রকল্প

চট্টগ্রামের রাস্তায় মিলছে মাছ