পুঁজিবাজারে ৪ আতঙ্ক

0
71
Share-Market
সূচকের পতন
Share-Market
সূচকের পতন

নাজুক পুঁজিবাজারে ৪টি আতঙ্ক প্রবল হয়ে উঠেছে। মরার উপর খাঁড়ার ঘা-এর মতো একের পর এক সঙ্কটে পড়ছে বাজার। একটির প্রভাব কাটিয়ে উঠার আগেই হাজির হচ্ছে নতুন সমস্যা, ভিন্ন সঙ্কট। ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্সের ধাক্কা সামলানোর আগেই নেমে এসেছে সিআরআর বাড়ানোর আঘাত। হতাশায়, আতঙ্কে বিনিয়োগকারীদের কাছে পুঁজিবাজার হয়ে উঠছে দু:স্বপ্নের মতো।

গেইন ট্যাক্স এবং সিআরআরের বাইরে আরও দুটি বিষয়ে আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা। এর একটি ১ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া মার্জিন ঋণের নতুন হার, অন্যটি ব্যাংক ক্লোজিং। এছাড়া যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামীর মামলার রায়ও যথেষ্ট ভাবিয়ে তুলেছে বিনিয়োগকারীদের। আজ মঙ্গলবার এ মামলার রায় হওয়ার কথা। এর আগে এ ধরনের রায়ের পর হরতাল আহ্বানসহ সারাদেশে তান্ডব চালিয়েছে জামাত-শিবির।

সোমবার সিআরআর হার বাড়িয়ে পুঁজিবাজারকে নতুন সঙ্কটের দিকে ঠেলে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নতুন দুটি সমস্যা যোগ হয়েছে বাজারে। গত ৫ জুন ২০১৪-১৫ অর্থবছরের অর্থ বিলে পুঁজিবাজারে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের ওপর মূলধনী মুনাফা কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়।

বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশ কিছু বিষয় নিয়ে তারা আগে থেকেই শঙ্কিত। প্রতিবছর ৩০ জুন ষান্মাষিক হিসাব মিলায় ব্যাংকগুলো। এ হিসাব মিলানোর কিছুদিন আগে থেকে তারা নতুন বিনিয়োগে নিষ্ক্রিয় থাকে। অন্যদিকে ব্যালান্সশিট বা মুনাফা ভালো দেখাতে লাভে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দেয়। কেনার বিপরীতে বিক্রির চাপ বেড়ে যাওয়ায় এ সময় বাজার বেশ অস্থির থাকে।

নিয়মিত এ ঘটনার সঙ্গে যোগ হয়েছে মার্জিন ঋণ অনুপাত কমানোর বিষয়। আগামী ১ জুলাই মার্জিন ঋণের বিদ্যমান হার ১:১ থেকে কমে ১:০.৫ হবে। অর্থাৎ ১০০ টাকা মূলধনের বিপরীতে ব্রোকারহাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংক তার গ্রাহককে ৫০ টাকা ঋণ দিতে পারবে। বর্তমানে ১০০ টাকা মূলধনের সমপরিমাণ তথা ১০০ টাকা ঋণ দিতে পারে তারা। যদিও মার্জিন ঋণের এ হার বিদ্যমান ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, তবুও নড়বড়ে বাজারে এটি বেশ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিদ্যমান এ দুই উদ্বেগের সঙ্গে যোগ হয়েছে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স ও সিআরআর ইস্যু। অর্থ বিলে আগামি অর্থবছর থেকে ব্যক্তি বিনিয়োকারীদের ওপর মূলধনী মুনাফা কর বা ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুসারে শেয়ার কেনাবেচা থেকে ১০ লাখ টাকার বেশি মুনাফা হলে ৩ শতাংশ হারে এবং ২০ লাখ টাকার বেশি মুনাফা হলে ৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। আর এনবিআরের হয়ে ব্রোকারহাউজ কেটে রাখবে ওই কর।

ক্যাপিটাল ট্যাক্স আরোপের সিদ্ধান্ত মন্দা বাজারকে আরও মন্দার দিকে ঠেলে দিয়েছে। এর মধ্যেই সোমবার নগদ অর্থ সংরক্ষণের (সিআরআর) হার দশমিক ৫ শতাংশ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে ব্যাংকগুলোকে তার আমানতের বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আরও বাড়তি অর্থ জমা রাখতে হবে। তাতে তাদের হাতে বিনিয়োগযোগ্য অর্থের পরিমাণ কমে যাবে। মুদ্রা বাজারে নগদ অর্থের প্রবাহ হবে সংকুচিত। আর মুদ্রা বাজারে অর্থের প্রবাহ কমে এলে বিশ্বজুড়েই পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আমাদের নাজুক বাজারের পক্ষে এমন প্রভাব এড়ানো কঠিন হবে।