বিজিএমইএতে ৩০ কারখানার রিপোর্ট: ক্ষতি দেড় কোটি ডলার
সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

বিজিএমইএতে ৩০ কারখানার রিপোর্ট: ক্ষতি দেড় কোটি ডলার

পোশাক কারখানারাজনৈতিক অস্থিরতা,হরতাল-অবরোধ ও সহিংসতায় নাজুক হয়ে উঠছে দেশের পোশাক শিল্পের অবস্থা। প্রতিদিনই নতুন নতুন কারখানা তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইতে জমা দিচ্ছে ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ। রোববার সকাল পর্যন্ত ৩০ টি কারখানা বিজিএমই’র কাছে ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ জমা দিয়েছে। বিজিএমইএ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজিএমইএর তথ্য অনুসারে,গত ২১ দিনে আলোচিত ৩০ কারখানার মধ্যে ১৯ টির অডার বাতিল হয়েছে।মূল্য ছাড় দিতে হয়েছে ১৯ টি কারখানাকে। বিমানে পণ্য পরিবহণ করতে হয়েছে ২৩ টি প্রতিষ্ঠানকে।জাহাজীকরণ বিলম্বের জন্য মাশুল দিতে হয়েছে ২৮ প্রতিষ্ঠানকে। সব মিলিয়ে এসব কারখানার এক কোটি ৬৩ লাখ ৫৭ হাজার ৫০ ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

এখন পর্যন্ত যে ৩০ কারখানা ক্ষতির রিপোর্ট করেছে বিজিএমইতে সেগুলো হচ্ছে-গার্মেন্ট এক্সপোর্ট ভিলেজ,রাতুল অ্যাপারেলস,ডিভাইন ফ্যাশন,নিটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ,সাউথইস্ট স্যুয়েটার,শাহেদ ফ্যাশন,শাহেদ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিজ,পি অ্যান্ড ও অ্যাটায়ারস,মার্ক মুড, লিরিক অ্যাপারেলস,আমিন ফ্যাব্রিক,কেজি গার্মেন্টস,ম্যানভিল স্টাইল,নোমান ফ্যাশন, সাদ-সান অ্যাপারেলস,লিরিক ইন্ডাস্ট্রিজ,বাংলা পোশাক,এসকেএল অ্যাপারেলস,সেভেন স্টার স্যুয়েটার,ডটকম স্যুয়েটার,ফ্যাশন ২০০০ লিমিটেড,বিএলপি ওয়ার্ম ফ্যাশন,স্পেস স্যুয়েটার,ফ্যাম স্যুয়েটার,এবিসি নীট কম্পোজিট,এসএমএইচ নিউ জেনারেশন,এসএএম স্যুয়েটার,সুফি অ্যাপেরালস,প্যানটালুন ডিজাইন ও প্যানটালুন জিন্স লিমিটেড।

এ সম্পর্কে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ)নেতা শহীদুল্লাহ আজিম চলমান রাজনৈতিক সংকট,পোশাক শিল্পে অস্থিরতা,রপ্তানি আদেশ বাতিলসহ পণ্য পরিবহন সংকটকে দায়ী করেন।

তিনি বলেন,সামগ্রিক অস্থিরতায় কারখানা মালিকেরা কাজের অর্ডার পাচ্ছেন না। এ সময়ের মধ্যে ৩০টি কারখানার রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়েছে।

তিনি বলেন,দেশে চলমান অস্থিতিশীল রাজনীতির কারণে কারখানা মালিকরা তাদের পণ্য পরিবহন করতে পারছে না। রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশে ব্যবসার পরিধি কমিয়ে আনছে। ভারত,কম্বোডিয়া,ভিয়েতনামসহ অন্যান্য দেশের প্রতি নজর দিচ্ছেন তারা। ফলে ক্রমেই রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়ে যাচ্ছে।

বিজিএমইএর অপর সহ-সভাপতি রিয়াজ বিন মাহমুদ জানান,দেশের চলমান সহিংসতার কারণে পোশাক শিল্পে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যমতে পোশাক শিল্পে ডিসেম্বরের প্রথম ২১ দিনে ৩০ কারখানায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক কোটি ৬৩ লাখ ৫৭ হাজার ৫০ ডলার। যা টাকার অংকে ১২৬ কোটি ৯৭ লাখ ১৮ হাজার ৪৬৬ টাকা।

আর সময় মতো পণ্য পৌঁছাতে না পারায় জরিমানা গুনতে হচ্ছে ৩৫ লাখ ২৫ হাজার ৫১৭ মার্কিন ডলার। মূল্যছাড় সংক্রান্ত জরিমানা ১৬ লাখ ২৮ হাজার ৪২৪ মার্কিন ডলার। আবার আকাশ পথে পরিবহনের জন্য অতিরিক্ত খরচ হয়েছে ১১ লাখ ৪৮ হাজার ২৫ মার্কিন ডলার। জাহাজী করণে বিলম্ব মাশুল ৭৬ লাখ ৮৪ হাজার ৭০৮ মার্কিন ডলার,ভাংচুর-নৈরাজ্যে ২২ লাখ ৮২ হাজার ৯১৩ মার্কিন ডলার।অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়ে ৮৭ হাজার ৪৬০ মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে বিজিএমইএ সূত্রে জানা যায়,এক সপ্তাহে ঢাক-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে ৫ হাজারের বেশি ট্রাক/কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন করতে পারে। অবরোধের মধ্যে সেখানে ২ হাজার ট্রাক/কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন করতে পারছে না। সে ক্ষেত্রে কারখানাগুলোতে পণ্য আটকে থাকছে।

আবার পণ্যবাহী ট্রাক/কাভার্ডভ্যানের চালকরা অবরোধের কারণে নিরাপত্তার ভয়ে গাড়ি চালাতে চাচ্ছেন না।

তবে ওই সময়ে পুলিশি নিরাপত্তায় কিছু পণ্য পরিবহন করলেও চাহিদার তুলনায় অনেক কম। আবার তাতে হচ্ছে কয়েকগুণ বাড়তি খরচ।

১৬ হাজার টাকার ট্রাক ভাড়া পুলিশি নিরাপত্তায় ৩৫ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে মালিকদের। এতে উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ মালিকদের। আবার পোশাক-কারখানাগুলতে নাশকতার কারণে উদ্বিগ্ন মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা।

বিকেএমইএ সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম চলমান সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিকেএমইএভুক্ত সদস্যদের কারখানায় হরতাল-অবরোধে অন্তত: ৩০ শতাংশ রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়েছে। উৎপাদন আদেশ না পাওয়ায় মালিকরা শ্রমিকদের কাজ দিতে পারছেন না। কাজ না থাকায় গতি হারিয়ে ফেলছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এখন বাংলাদেশ থেকে বিদেশি ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। ক্রেতারা ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে ঝুঁকছে বলে জানান তিনি।

এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনস অব বাংলাদেশ (ইএবি)এর সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী অর্থসূচককে জানান,চলমান পরিস্থিতিতে পোশাক শিল্পের  উৎপাদন ১০ শতাংশ কমে রপ্তানি  হ্রাস পেয়েছে বহুগুনে। তাতে প্রায় এই  শিল্পে ৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে পোশাক মালিক বলছেন,বছরের এই সময়টাতে সব চেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি হয়ে থাকে। বড় দিনকে সামনে রেখে রপ্তানির ব্যস্ততা বেড়ে যায়। তবে চলমান পরিস্থিতির কারণে এবার শিল্পে বিপরীত অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ভর মৌসুমে কাজ হারাচ্ছেন কারখানা মালিকেরা।

মালিকেরা জানান,পুলিশি পাহারায় পণ্য পরিবহন হলও চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে মালবাহী ট্রাক আগুনে পুড়ে যাওয়ায় চলাচল বন্ধের উপক্রম হয়েছে। এতে করে আরও বেশি ক্ষতি হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

 

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ