রাজধানীতে অবরোধ ঢিলেঢালা, মহাসড়কে সেনাসদস্য

0
43

Oborodh_strikeনির্বাচন স্থগিত, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন ও শীর্ষ নেতাদের মুক্তির দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের দেওয়া সিরিজ অবরোধ কর্মসূচির পঞ্চম দফার দ্বিতীয় দিন রোববার সকাল থেকে রাজধানীর কোথাও কোনও ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। রোববার ভোর থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও পয়েন্টকে ঘিরে র‌্যাব-পুলিশের কঠোর অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। অবরোধে রাজধানী জুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কড়া নিরাপত্তার বলয় তৈরি করেছে।

শনিবার সকাল থেকে রাজধানীতে সেনাবাহিনী অবস্থান নিতে দেখা গেছে। এ কারণে নাশকতা ও সহিংসতা অনেকাংশে কমে গেছে বলে মনে করছে রাজধানীবাসিদের অনেকেই।

ধানমন্ডি স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র শাহেদ বলেন, ‘যদিও দেশে এখনই সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। তবু রাজধানীকে দূর্বৃত্তদের নাশকতা থেকে সুরিক্ষত রাখতে সেনাবাহিনীর বিকল্প নেই।’

নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এলাকাসহ ফকিরাপুল বিজয়নগর নাইটেঙ্গাল মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কড়া উপস্থিতি দেখা গেছে। নাশকতা এড়াতে পুলিশের সাজোয়া যান এপিসি, জলকামান এমনকি প্রিজনভ্যান, এ্যাম্বুলেন্স ও জরুরী রসদ সরবরাহের গাড়ী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালনের আগে সেনাসদস্যদের  দেশের কয়েকটি মহাসড়কে টহল দিতে দেখা গেছে। গতকাল শনিবার তারা দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেন এবং মহাসড়কে অবস্থান নেন।

আজ রোববার সকাল থেকে সেনাসদস্যরা রাজধানীর আরও কয়েকটি মহাসড়কে অবস্থান নেবেন বলে জানা গেছে। তবে এটা নির্বাচনী কারণে কিংবা রাজধানীতে নাশকতা ঠেকানোর জন্য কিনা তা জানা যায়নি।। এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কোনও মহলের সুস্পস্ট কোনও বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সেনা কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের সাথে কোনও কথা বলতেই রাজি হননি।

রোববার অবরোধ চলাকালীন সময়ে রাজধানীর অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটে বাস, লেগুনা, সিএনজি চালিত অটোরিকশা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। তবে ভাংচুরেরর আতংকে রাস্তায় প্রাইভেট গাড়ীগুলোর সংখ্যা ছিল কম।

পল্টন মোড়ের চা দোকানি আলমগীর বলেন, ‘১১ দিন পর আইজকা দোকান খুলছি। বেঁচা বিক্রিও মাশাল্লাহ হইতেছে। আর্মি নামাই দিছে তাই এহন সব ঠান্ডা।’

সেনা মোতায়েন হয়ে গেছে রাজধানীবাসীর এমন ধারণা হলেও সেনা মোতায়েন নিয়ে গত শুক্রবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দীন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ২৬ ডিসেম্বর থেকে ১৫ দিনের জন্য সেনাসদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সংস্থাগুলোর বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার থেকেই সেনাসদস্যরা দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে অবস্থান নেন। ওই দিন আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর থেকে বলা হয়, সেনাসদস্যরা শীতকালীন প্রশিক্ষণ মহড়ায় নিয়োজিত রয়েছেন।

রাজধানীতে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এমন গুঞ্জনের কারনে রোববার সকাল থেকেই তেমন কোনও নাশকতার ঘটনা ঘটেনি।

এমআর/