তৃতীয় প্রান্তিকে খাদ্য খাতে মিশ্র অবস্থা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের কোম্পানিগুলো গত প্রান্তিকে মিশ্রভাবে পারফরম করেছে। এ সময়ে প্রায় সমসংখ্যক কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে ও কমেছে। এ খাতে তালিকাভুক্ত ১৭ টি কোম্পানির মধ্যে মুনাফায় থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত সময়ে ৫ টি কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে। মুনাফা কমেছে ৫ টির এবং নতুন করে ১ টি লোকসান করেছে।

এর বাইরে লোকসানে থাকা কোম্পানির মধ্যে ২ টির লোকসান বেড়েছে কমেছে ১ টির এবং লোকসান থেকে মুনাফায় ফিরেছে ৩ টি কোম্পানির।

 

কোম্পানিগুলোর প্রকাশ করা আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। সম্প্রতি এসব কোম্পানি স্টক এক্সচেঞ্জে তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

 

তৃতীয় প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি মুনাফা বেড়েছে বঙ্গজের। প্রতিষ্ঠানটি আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৭৪১ শতাংশ বেশি মুনাফা করেছে। সর্বশেষ প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ২ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২৪ পয়সা। গোল্ডেন হারভেস্ট এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ইপিএস ১২৭ শতাংশ বেড়ে ৩৬ পয়সা থেকে ৮২ পয়সা হয়েছে। রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড ইপিএস ৩৪ শতাংশ বেড়ে ২৩ পয়সা থেকে ৩১ পয়সা হয়েছে। বিএটিবিসির ইপিএস ২৩ শতাংশ বেড়ে ১৮ টাকা ৬৭ পয়সা থেকে ২৩ টাকা হয়েছে। এএমসিএল (প্রাণ) ইপিএস ৪ শতাংশ বেড়ে ২ টাকা ৫৮ পয়সা থেকে ২ টাকা ৭০ পয়সা হয়েছে।

 

এছাড়া মুনাফায় ফিরেছে আরও ৩ টি কোম্পানি। আলোচিত প্রান্তিকে ফাইন ফুডস লিমিটেডের শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ২৪ পয়সা, গত বছরে একই সময়ে শেয়ার প্রতি লোকসান ছিল ২২ পয়সা। রহিমা ফুডের ইপিএস ৩ পয়সা এবং লোকসান ৩ পয়সা ছিল এবং জিলবাংলা সুগার মিলস লিমিটেডের ইপিএস ৬৭ পয়সা এবং লোকসান ১৬ পয়সা।

 

অন্যদিকে তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফা কমেছে ৫ টি কোম্পানির। এর মধ্যে চেয়ে বেশি মুনাফা কমেছে বিচ হ্যাচারি লিমিটেডের। এ কোম্পানির ইপিএস কমেছে ৮২ শতাংশ। আলোচিত প্রান্তিকে এর ইপিএস ৩৯ পয়সা থেকে কমে ৭ পয়সা হয়েছে। ন্যাশনাল টির ইপিএস ৬৪ শতাংশ কমে ১৮ টাকা ৮৪ পয়সা থেকে ৬ টাকা ৭০ পয়সা হয়েছে। অ্যাপেক্স ফুডের ইপিএস ৪৩ শতাংশ কমে ৮০ পয়সা থেকে ৪৫ পয়সা হয়েছে। ফু-ওয়াং ফুডের ইপিএস ২৮ শতাংশ কমে ২৮ পয়সা থেকে ২০ পয়সা হয়েছে এবং  সিভিও পেট্রোক্যামিকেল রিফাইনারি লিমিটেডের ইপিএস ২৭ শতাংশ কমে ৩৬ পয়সা হয়েছে।

 

এর বাইরে লোকসান কমেছে ১ টি কোম্পানির। শ্যামপুর সুগার মিলস লিমিটেডের লোকসান কমেছে ৪৫ শতাংশ। এ সময়ে শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৩ টাকা ৬৬ পয়সা যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৬ টাকা ৭০ পয়সা।

 

এ বাদেও লোকসান বেড়েছে ২ টি কোম্পানির। মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের লোকসান বেড়েছে ২০ শতাংশ। এই প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৫৯ পয়সা যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৪৯ পয়সা। মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজের লোকসান হয়েছে ৮১০০ শতাংশ। এই প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি  লোকসান হয়েছে ৪১ পয়সা যা আগের বছর একই সময়ে ছিল .০০৫ পয়সা।

 

নতুন করে লোকসান দিয়েছে জিমনি সি ফুড। কোম্পানি এই প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি লোকসান করেছে ৩ টাকা ৬৬ পয়সা। তবে গত বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় করেছিলো ১ টাকা ২৯ পয়সা।

 

এমআরবি/