মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে বরাদ্দ ৩ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা

0
230
পুকুরে মাছ চাষ
পুকুরে মাছ চাষ (ফাইল ছবি)
পুকুরে মাছ চাষ
পুকুরে মাছ চাষ (ফাইল ছবি)

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন মিলে মোট ৩ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। জিডিপিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপখাতের অবদান বাড়ানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এই বরাদ্দের ঘোষণা দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনায় তিনি এই প্রস্তাব পেশ করেন।

গত অর্থবছরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উন্নয়নও অনুন্নয়ন মিলে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল মোট ২ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা। এবারের বাজেটে এই খাতে আরও এগিয়ে নিতে ৮৪৮ কোটি টাকার অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণের মাধ্যমে জনগণের পুষ্টিহীনতা দূর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি কর্মসৃজনের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনসহ জিডিপি-তেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। আবার রপ্তানি বাণিজ্যেও এখাতের অবদান উল্লেখ্যযোগ্য।মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যে অনেক কার্যক্রম গ্রহণ করছি এবং ভবিষ্যতেও আমাদের এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, জাতীয় মাছ ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমন্বিত কার্যক্রম আগের মতোই আগামিতে অব্যাহত থাকবে। জাতীয় চিংড়ি নীতিমালা, ২০১৪ প্রণয়নের কাজ যত শিগগিরই সম্ভব সম্পন্ন করা হবে।বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অর্জিত অতিরিক্ত ১ লাখ ১১ হাজার ৬৩১ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেয়া হবে।

এলক্ষ্যে আমরা ফিসিং গ্রাউন্ড চিহ্নিতকরণ, মৎস্য সম্পদের প্রজাতিভিত্তিক মজুদ নিরূপণ এবং সর্বোচ্চ সহনশীল মৎস্য আহরণের মাত্রা নির্ণয় করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।আমরা প্রকৃত মৎস্যজীবীদেরকে সনাক্ত করে নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান করব। জলাশয় সংশ্লিষ্ট সুফলভোগী ও মৎস্যজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত সমবায়ভিত্তিক সংগঠনের মাধ্যমে মৎস্যচাষ ব্যবস্থাপনা প্রবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করব।

ইতোমধ্যে আমরা গবাদি পশু-পাখির টিকা উৎপাদন, চিকিৎসা সেবা প্রদান, কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে জাত উন্নয়ন এবং খামারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান কার্যক্রম চালু করেছি ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখব।

গত অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, জিডিপিতে দেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান ৭ থকে ৮ শতাংশ। যা দেশের কৃষিজ আয়ের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ। দেশের নদ-নদী ও জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রমের সংখ্যা ক্রমগত বাড়ানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে জাটকা নিধন কর্মসূচি বেগবান করেছে সরকার। পরিবেশ বান্ধব চিংড়ি চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

অপরদিকে গবাদি পশু ও হাঁস মুরগির জন্য টিকা উৎপাদন ও তা সহজলভ্যকরণ, কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ অন্যান্য রোগ নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে দেশে দুধ, মাংস ও ডিমের বার্ষিক উৎপাদন আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে যেখানে ২৩ লাখ ৬৫ হাজার লিটার দুধ, ১২ লাখ ৬৪ হাজার মেট্রিক টন মাংস, ৫৭৪ কোটি ২৪ লাখ ডিমের বার্ষিক উৎপাদন ছিল। ২০১১-১২

অর্থবছরে এসে তা বৃদ্ধি পেয়েছে। ৩৪ লাখ ৬৩ হাজার লিটার দুধ, ২৩ লাখ ৩২ হাজার টন মাংস ও ৭৩০ কোটি ৩৮ লাখ ডিম উৎপাদন হয়েছে। যা ২০০৯-১০ অর্থবছরের তুলনায় অনেক বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি।