বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে আইপিএম পদ্ধতি জনপ্রিয় হচ্ছে

0
251
বেগুন ক্ষেত
বেগুন ক্ষেত
বেগুন ক্ষেত
বেগুন ক্ষেত

সবজিতে কীটনাশক ব্যবহার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে ফরিদপুরের কৃষকরা। আর তাই জেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আইপিএম পদ্ধতি। এরই মধ্যে সফল ভাবে ব্যবহারও শুরু হয়েছে। একদিকে বিষমুক্ত সবজি সহজ বিক্রয়ের পাশাপাশি উৎপাদন খরচও কমে গেছে বলে দাবি কৃষকদের।

সেক্স ফেরোমেন ফাঁদ ব্যবহারের মাধ্যমে সবজি খেতের পোকা দমন সম্ভব। তাই প্রয়োজন হয় না কীটনাশক ব্যবহারের। এতে সাশ্রয়ী হয় সবজি উৎপাদনের খরচ। এছাড়া বিষমুক্র সবজি বাজারে ক্রেতাদের নিকট ব্যাপক চাহিদার কারণে বিক্রয়ও সহজ। তাই ফরিদপুরের কৃষকরা এখন আইপিএম পদ্ধতি ব্যবহার করে সবজি জাতীয় ফসল উৎপাদনে ঝুঁকে পড়েছে। আর আগ্রহী কৃষকদের এ পদ্ধতি ব্যবহারে সহযোগিতা করছে ইউএসআইডি এর সাহায্যপুষ্ট আইপিএম আইএল (সিআরপি), বাই ইন প্রজেক্ট, বাংলাদেশ।

সংস্থাটি এ পদ্ধতি ব্যবহারে মাঠ পর্যায়ে কৃষক ও কৃষকবধুদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছে। বুধবার দুপুরে জেলার সদর উপজেলার ধুলদি গ্রামের মাঠে ধুন্দুলের মাছি পোকা দমন ব্যবস্থাপনায় আইপিএম আইএল পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে কীটনাশক মিশ্রিত সবজি ব্যবহারের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে স্থানীয়দের অবহিতও করা হয়। এ সময় ইউএসএআইডি এর সাহায্যপুষ্ট আইপিএম প্রজেক্ট এর প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মো. ইউসুফ মিঞা, সহকারী কো-অর্ডিনেটর ড. মো. শাহাদত হোসেন ও বরিশাল অঞ্চলের ফিল্ড অফিসার অলিউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

আইপিএম এর সেক্স ফেরোমেন পদ্ধতির ব্যবহার করে সফলতা পাওয়া কৃষকরা জানান, এ পদ্ধতি ব্যবহারে উৎপাদন খরচ কমে যাওয়ায় তারা (চাষীরা) এ পদ্ধতি ব্যবহারে উৎসাহী হচ্ছে।

অপর দিকে নিজ পরিবারের সদস্যদের রোগ ব্যাধির হাত থেকে রক্ষার্থে বিষমুক্ত সবজি খাওয়ার দাবি কৃষান বধুদেরও।

ইউএসএআইডি এর সাহায্যপুষ্ট আইপিএম প্রজেক্ট এর সহকারী কো-অর্ডিনেটর ড. শাহাদত হোসেন বলেন, পরিবারের প্রধান অংশ নারী। তাই নারীদের সচেতন করার মাধ্যমে বিষযুক্ত সবজির ব্যবহার রোধ করা যেতে পারে।

আইপিএম প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ইউসুফ মিঞা বলেন, বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে সর্বাত্মক সহযোগীতা দেওয়া আইপিএম আইএল প্রকল্প ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তিনি জানান, এরই মধ্যে কয়েক হাজার ফেরোমেন চাষীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। ফেরোমেন ফাঁদের ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে বিষমুক্ত সবজির ব্যবহার নিশ্চিত হবে। এতে জাতি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে।

স্থানীয় চাষীদের দাবি, ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে আইপএম পদ্ধতি তৃণমূল চাষীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার।

এমআইটি/সাকি