ফরচুন গ্যালারির ৪৯% শেয়ার নেবে ফরচুন সুজ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ফরচুন সুজ লিমিটেড ব্যবসা বহুমুখী করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে কোম্পানিটি লাইফস্টাইল প্রোডাক্টের চেইন স্টোরের ব্যবসায় নামছে। তবে কোম্পানিটি সরাসরি নিজে এই ব্যবসা করবে না। বরং ফরচুন গ্যালারি নামের প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের মাধ্যমে এই ব্যবসার অংশীদার হবে।

গত ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হিসেবে ইতোমধ্যে প্রকাশও করেছে। তবে তাতে ফরচুন গ্যালারি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। কোম্পানি সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এই ব্যবসা সম্পর্কে প্রাথমিক কিছু তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, ফরচুন সুজ লিমিটেডের কোম্পানি সচিব রিয়াজ উদ্দিন ভুঁইয়া অর্থসূচকে বলেন, মূলত: ব্যবসা বহুমুখীকরণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ফরচুন গ্যালারিতে বিনিয়োগ করবে ফরচুন সুজ। ফরচুন সুজ এই কোম্পানির ৪৯ শতাংশ শেয়ার ধারণ করবে। ফরচুন গ্যালারির পরিশোধিত মূলধন হবে ৫ কোটি টাকা। আর কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন হবে ১০০ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, ফরচুন গ্যালারিতে মূলত লাইফস্টাইল প্রোডাক্ট বিক্রি করা হবে। দেশ-বিদেশের সেরা ব্র্যান্ডের প্রোডাক্ট পাওয়া যাবে তাতে। প্রথমে রাজধানীসহ কয়েকটি নির্বাচিত শহরে এই গ্যালারি তথা শোরুম চালু করা হবে। পর্যায়ক্রমে এটিকে সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে নিয়ে যাওয়া হবে।

তবে কবে নাগাদ ফরচুন গ্যালারির বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে, প্রথম বছরে কতগুলো আউটলেট করা হবে এবং কোম্পানির সম্ভাব্য টার্নওভার (পণ্য বিক্রির পরিমাণ) কত হবে সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। এ বিষয়ে ফরচুন সুজের কোম্পানি সচিব বলেন, সব কিছু প্রাথমিক পর্যায়ে আছে।

উল্লেখ, ফরচুন সুজ লিমিটেড শতভাগ রপ্তানিমুখী একটি ফুটওয়্যার কোম্পানি। এই কোম্পানি নারী-পুরুষ ও শিশুদের জন্য স্পোর্টস সুজ, বুট ও কেডসসহ নানা ডিজাইনের জুতা উৎপাদন করে থাকে।

২০১২ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা এই কোম্পানি ২০১৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১৫৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। শেয়ার সংখ্যা ১৫ কোটি ৪৯ লাখ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সর্বশেষ তথ্য অনুসারে,মোট শেয়ারের ৩৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ উদ্যোক্তাদের হাতে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে, ৫৪ দশমিক ৬২ শতাংশ শেয়ার। বাকী শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে।

ফরচুন সুজ লিমিটেডের সর্বশেষ প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে কোম্পানিটি ১৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা নীট মুনাফা করে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •