আকারের সাথে ঘাটতিও বাড়ছে বাজেটে

0
114
Scale Budget

Scale Budgetবিশাল ঘাটতি নিয়ে ৫ জুন সংসদে আড়াই লাখ কোটি টাকারও বেশি অংকের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে প্রায় ৬৮ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি রাখা হয়েছে এবারের বাজেটে। মাত্রাতিরিক্ত ঘাটতির কারণে এবারও সরকার বাজেটে ঋণনির্ভরতা বাড়াচ্ছে। আর এ ঋণ বৈদেশিক সাহায্যে না হলে তা বিনিয়োগের জন্য অনেক বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন দেশের অর্থনীতিবিদরা।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। আর সব মিলে আয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) খাত থেকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকার কর আহরণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এনবিআরবহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ১৪০ কোটি টাকার। করবহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৬৬০ কোটি । আর ঘাটতি রাখা হয়েছে ৬৭ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এই ঘাটতি ছিল ৫৫ হাজার ৩২ কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের তুলনায় ঘাটতি বেড়ে যাবে ১২ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা। এর আগে যেমন এত বড় অংকের বাজেট হয়নি, তেমনি এত বড় ঘাটতি বাজেটও হয়নি। এই ঘাটতি জিডিপির হিসাবে দাঁড়াবে ৫ দশমিক ০৫ শতাংশে।

সূত্র আরও জানায়, বাজেটের এ ঘাটতি অর্থায়ন মেটাতে বৈদেশিক সূত্র থেকে ২৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে ৪০ হাজার ৭৩ কোটি টাকা সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সংগৃহীত হবে ৩১ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে ৮ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা। যদিও চলতি অর্থবছরে সরকার নির্ধারিত অংকের চেয়েও কম পরিমাণে ব্যাংক ঋণ দিয়েছে।

সার্বিক উন্নয়ন প্রকল্প কর্মসূচি বাড়ার কারণে বড় ধরনের ঘাটতি বাজেট প্রণয়ন করায় তার বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন অর্থনীতিবিদরা। সেই সাথে ঘাটতির অংশ বিদেশি সাহায্যের পরিবর্তে দেশিয় ব্যাংক থেকে ঋণের মাধ্যমে গ্রহনের পরিকল্পনা করায় তা বিনিয়োগের জন্য হুমকি হবে বলে মনে করেন তারা। আর দেশিয় ব্যাংক থেকে ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে তা পূর্বের ন্যায় মুদ্রাস্ফিতিকেও উসকে দেবে বলে মত দিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মির্জা আজিজুল ইসলাম।

মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাজেটে ঘাটতি থাকবে এটা স্বাভাবিক বিষয়। তবে এ ঘাটতি অবশ্যই বিদেশি সাহায্য কিংবা স্বল্প সুদে ঋণের মাধ্যমে পূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে আগামি বাজেটের ঘাটতি পূরণে দেশিয় ব্যাংক থেকে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকার ঋণের প্রস্তাবনা করা হয়েছে। এটি করা হলে মুদ্রাস্ফিতি অনেক বেড়ে যাবে। মুদ্রাস্ফিতি বাড়লে দারিদ্রহারও বাড়বে যা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে বাধা প্রদান করবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজেটের ঘাটতি পূরণে দেশিয় উৎস থেকে ৬০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে থাকলে তা বিনিয়োগের জন্য অনেক বড় বাধা হয়ে দাড়াবে। ব্যাংক থেকে যদি সরকার ঋণ গ্রহণ করে তাহলে ব্যাংক খাত বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের ওপর থেকে তা পুষিয়ে নিবে। আর নতুন বিনিয়োগকারীরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিনিয়োগের সুযোগ পাবে না। তাই বাজেটের ঘাটতি মিটাতে বৈদেশিক সাহায্যের দিকে নজর দিতে হবে।