মানছে না আইন, কৌশলী প্রচারণায় সিগারেট কোম্পানি

0
130
দেশে এক চেটিয়া বাজার থাকার পরেও প্রচারণার এই কৌশল নিয়েছে ব্রিটশি আমেরিকান টোবাকো কোম্পানি।
দেশে এক চেটিয়া বাজার থাকার পরেও প্রচারণার এই কৌশল নিয়েছে ব্রিটশি আমেরিকান টোবাকো কোম্পানি।
দেশে এক চেটিয়া বাজার থাকার পরেও প্রচারণার এই কৌশল নিয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কোম্পানি।

গত ৩১ মে ‘তামাকের উপর কর বাড়াও, রোগ-মৃত্যুর হার কমাও’ প্রতিপাদ্য নিয়ে সারা দেশে পালিত হয় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস।ধুমপানের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ওই দিন পালিত হয় নানা কর্মসূচি।কর্মসূচিগুলোতে তুলে ধরা হয় ধুমপানের ভয়াবহতা।

তবে নানান সংগঠন ও সরকারের পক্ষ থেকে যখন ধুমপানে নিরুৎসাহীত করার চেষ্ঠা করা হচ্ছে তখনও ধুমপানে আকৃষ্ট করতে সিগারেট কোম্পানিগুলো ব্যস্ত প্রচারণায়।

দেশের আইনে তামাক ও তামাকজাত পণ্যের প্রচারণা আইন করে নিষিদ্ধ করা হলেও তা বন্ধ হয়নি। কোম্পানিগুলো নানা কৌশলে প্রচারণা চালিয়েই যাচ্ছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেছে আগের মতো বড় বড় পোস্টার না করলেও প্রাচারণা থেমে নেই কোম্পানিগুলোর। এখন তারা রাস্তার মোড়ে মোড়ে থাকা পান সিগারেটের দোকানগুলোত নিজেদের পণ্যের নাম, প্যাকেটের ছবি, সিগারেটের প্যাকেট লাগানো বাক্স দিচ্ছে।

সারা দিন ওই দোকানে যত ক্রেতা আসছে তারা সকলেই দেখছে ওই ‘কৌশলগত বিজ্ঞাপন’। নাম মাত্র মূল্যে সুদৃশ্য ও মজবুত ওইসব বাক্সের প্রতি আগ্রহও আছে বিক্রেতাদেরও। তারা নিরাপত্তার বিবেচনায় এই বাক্স ব্যবহার করছেন বলে জানান রাজধানীর শাহাবাগের এক সিগারেট বিক্রেতা।

এছাড়া কয়েকটি কোম্পানি আবার বাজার সম্প্রসারণের কৌশল হিসাবে বেছে নিয়েছে সরাসরি ব্যক্তি ব্যবহারের কৌশল।

কয়েক দিন আগে দেশের অনেক জায়গা বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামে দেখা গেছে দেশি একটি কোম্পানি নতুন ধরনের সিগারেট বাজারে এনে এর প্রচারণার জন্য ‘বিশেষ বিক্রয় প্রতিনিধি’ নিয়োগ দেয়। এই প্রতিনিধিরা সিগারেটের নাম সম্বলিত রঙিন পোশাক পড়ে সকলকে কোম্পানির সিগারেট কেনার আহ্বান জানাচ্ছেন।

এদিকে এই বিষয়গুলোতে সরকারের কোনো নজর না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞার (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, কৌশল পাল্টে কোম্পানিগুলো এখন নানা ভাবে তাদের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে অথচ সরকার এদিকে খেয়াল করছে না।

তিনি বলেন, তামাকজাত পণ্যের প্রচারণা বন্ধে আইন করা হয়েছে। আইনে সিগারেটের সকল ধরনের প্রচারণার ওপর নিষেধ জারি আছে অথচ কোম্পানিগুলো ওই আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ পাস হয়। পরে ২০১৩ সালে আইনটি আবার সংস্কার করা হয়। সেখানে প্রচারণার বিষয়ে বলা হয়েছে, বিড়ি, সিগারেটের পাশাপাশি জর্দা, গুল ও সাদাপাতার মতো সকল প্রকার ধোঁয়াবিহীন দ্রব্যও তামাকজাত দ্রব্য । আর তামাকপণ্য বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্যের যেকোনো উপায়ে বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে আইনে বলা হয়েছে। আইন ভঙ্গকারী সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা তিন মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ১৮ বছরের নিচে কারও কাছে বা কারো দ্বারা যেকোনো প্রকার তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবেও আইনে বিধান করা হয়েছে।