পরীক্ষার ১৮ বছর পর বিসিএস ক্যাডার হলেন সুমনা

১৮ বছর পর অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে সহকারি সার্জন হিসেবে সাময়িক সুপারিশ পেলেন চক্ষু চিকিৎসক সুমনা সরকার। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) নূর আহ্‌মদ।

তিনি বলেন, ‘আদালতের রায়ের আলোকে পিএসসি তাকে ভাইবায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়। ভাইবা বোর্ডে মেধার স্বাক্ষর রাখায় আজ তাকে সহকারি সার্জন হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।’

অনুভূতির কথা জানতে চাইলে সুমনা বলেন, ‘এই সাফল্যকে আমি আমার মুক্তিযোদ্ধা বাবার প্রতি উৎসর্গ করছি। আমি আরও বলবো, ভবিষ্যতে এমন ভোগান্তির শিকার যেন কেউ আর না হয়।’

নিজের অধিকারের জন্য প্রায় দেড় যুগ আদালতে আইনি লড়াই করেছেন সুমনা। ততদিনে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের বয়স পেরিয়ে গেছে। তবে যেহেতু আবেদন করার সময় তার বয়স ২৮ ছিল, তাই আদালতের রায়ে তিনি মৌখিক পরীক্ষা দিতে পেরেছেন।

সুমনার সাফল্যের কথা জেনে তার পক্ষে বিনা ফি’তে আইনি লড়াই করা আইনজীবী সেলিনা আক্তার চৌধুরী বলেন, ‘সংবাদটি শুনে আমি খুব খুশি। মামলাটি নিয়ে আমি আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আমরা আমাদের পক্ষে রায় পেয়েছি।’

২০২০ সালের ১৯ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ সুমনা সরকারের ভাইভা পরীক্ষা নিতে সরকারি কর্ম কমিশনকে নির্দেশ দেয়। ভাইভায় পাস করলে তাকে নিয়োগ দিতেও বলেছিল আদালত।

সুমনা সরকারের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল হলেও বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চক্ষু বিশেষজ্ঞ হিসেবে চাকরি করছেন।

তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা অমল কৃষ্ণ সরকারও চিকিৎসক ছিলেন। তিনি টাঙ্গাইলের কাদেরিয়া বাহিনীর সদস্য ছিলেন।

সে সময় মুক্তিযোদ্ধার সনদ সংক্রান্ত জটিলতার কারণ দেখিয়ে সুমনাসহ অনেক পরীক্ষার্থীর ভাইভা পরীক্ষার কার্ড ইস্যু করা হয়নি। পরে তারা ভাইভা পরীক্ষা দিতে পারেনি।

এ ঘটনায় বঞ্চিতদের মধ্যে ১২ জন ২০০৩ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট তাদের ভাইভা পরীক্ষা নেয়ার নির্দেশ দেন। পরে ওই ১২ জন ভাইভা পরীক্ষা দিয়ে নিয়োগও পান।

সুমনা সরকারও ২০০৯ সালে এসে হাইকোর্টে রিট করেন। ২০১৫ সালে হাইকোর্ট তার ভাইভা নেয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু রায় স্থগিত চেয়ে আপিল করে পিএসসি।

চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের রায়টি ২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর স্থগিত করে দেয়। এরপর দীর্ঘ দিন মামলাটি আপিল বিভাগে বিচারের অপেক্ষায় ছিল।

অর্থসূচক/এমএস