২ কারণে অস্থিরতা বীমা খাতের শেয়ারে

পুঁজিবাজারে বীমা খাতের শেয়ার নিয়ে হঠাৎ তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আজ রোববার (৩ অক্টোবর) সপ্তাহের প্রথম লেনদেন দিবসে এই খাতের শেয়ারে ব্যাপক দরপতন হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে উঠেছেন অনেক বিনিয়োগকারী।

আজ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৩০টি বীমা কোম্পানির মধ্যে ২৩টি শেয়ারের দর হারিয়েছে। যা মোট কোম্পানির ৮৮ শতাংশ। এই বাজারে শেয়ারের সর্বোচ্চ দর হারানো ১০ কোম্পানির তালিকায় ৪টি ছিল বীমা খাতের। এদের মধ্যে ২টি কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ করে। কোম্পানি দুটি হচ্ছে-ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স। এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম কমেছে ৬ শতাংশ। আর জনতা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার সাড়ে ৪ শতাংশ দর হারিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২টি ঘটনার প্রভাব পড়েছে বীমা খাতের শেয়ারে। গত কিছুদিন ধরে বিভিন্ন বীমা কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা বিপুল সংখ্যক শেয়ার বিক্রি করে চলেছেন। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের চার উদ্যোক্তা প্রায় ২৮ লাখ শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেয়। এক সাথে এত বেশি শেয়ার বিক্রির ঘোষণায় কোম্পানির শেয়ারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাব পড়ে সামগ্রিক বীমা খাতে। যদিও উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ার কেনা-বেচার ঘটনা আইনসিদ্ধ ও নিয়মিত বিষয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে একদিনে এত বেশি সংখ্যক শেয়ার বিক্রির ঘোষণা আসেনি কোনোদিন। এদিকে রোববার এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের এক উদ্যোক্তা শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন। এতে বিনিয়োগকারীদের অনেকের মনে আশংকা, আগামীতে আরও অনেক উদ্যোক্তা বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দিতে পারেন। এভাবে বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে গেলে দামের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এমন আশংকায় অনেক বিনিয়োগকারী বীমা খাতের শেয়ার কেনায় অনেক বেশি সতর্ক।

এদিকে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান ড. মোশাররফ হোসেনের নিয়োগের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। এই বিষয়টিও বাজারে প্রভাব ফেলেছে। কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব থেকে অপসারিত হলে তার করা সংস্কারগুলো থাকবে কি-না, কোম্পানিগুলো আয়ের প্রবৃদ্ধি দেখাবে কি-না তা নিয়ে অনেকের মধ্যে সন্দেহ। আর এগুলোর ধারাবাহিকতা না থাকলে কোম্পানিগুলোর পারফরম্যান্সের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে  মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। অন্যদিকে বর্তমান চেয়ারম্যানের সংস্কারসহ নানা সিদ্ধান্তে কোম্পানিগুলোর মালিকদের একটি অংশ বেশ ক্ষুব্ধ ছিল। তারা এই সময়ে শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়ে বাজারকে অস্থির করা ও তাকে কিছুটা বিপদে ফেলার চেষ্টা করছে বলেও অনেকে সন্দেহ করছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •