‘বিদেশে যেতে হলে খালেদা জিয়াকে প্রথমে জেলে যেতে হবে’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত ও মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়াতে মতামত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। তবে খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে যেতে চাইলে এখন তাকে কারাগারে গিয়ে নতুন করে আবেদন করতে হবে। তখন অনুমোদন হবে কি না সেটা সরকারের বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে।

আজ রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউশনে আইন কমিশনের রজতজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এসব কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শর্তহীন মুক্তি চেয়েছেন ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার। এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন তিনি।

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এ অবস্থায় খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর মতামত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের কাছে গত সপ্তাহে এসেছিল। আমরা মতামত দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। তাতে আমরা ছয় মাসের মেয়াদ বাড়াতে মত দিয়েছি। রাতে আমি খবর নিয়েছি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র সুরক্ষা সচিব দুজনে সরকারি কাজে বিদেশে আছেন। সেজন্য আবেদনটি এখনো প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয়নি।

খালেদা জিয়ার বিদেশ যাত্রার বিষয়টি বারবারই উঠে এসেছে, এ অবস্থায় সে সুযোগ আছে কিনা- এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) যে আবেদন করেছেন তা ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার একটি আবেদন হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার নির্বাহী আদেশে তার সাজা স্থগিত রেখে তাকে মুক্তি দিয়েছিলেন শর্তসাপেক্ষে। যে আবেদনের ওপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে সে আবেদনটি নিষ্পত্তি হয়ে গেলো।

এ অবস্থায় এটাকে পরিবর্তন করার আইন নাই। যদি এটা করতে হয় যেটা আমি আগেও বলেছি, তাকে (খালেদা জিয়া) আবার জেলে গিয়ে এ আবেদন বাতিল করতে হবে। এরপর আবার নতুন আবেদন করতে হবে। এ আবেদনের আমাদের মেয়াদ বাড়ানো ছাড়া আমাদের কিছু করার নাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে ফিরলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবে, যোগ করেন আনিসুল হক।

এর আগে অনুষ্ঠানে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন করেন বিচার প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব মঈনুল কবীর এবং আইন ও বিচারবিভাগের সচিব গোলাম সারওয়ার।

অর্থসূচক/কেএসআর