ফেয়ারনেস ক্রিম কি ত্বক ফর্সা করে?

0
356
fairness cream
ফাইল ছবি
fairness cream
ফাইল ছবি

ফেয়ারনেস ক্রিম বা রং ফর্সাকারী ক্রিমের কার্যকারিতা নিয়ে আছে হাজারো বিতর্ক। কেউ বলেন কাজ করে, কেউ বলেন করে না। আবার অনেকের দাবি এই ক্রিম ব্রণের মতো শত্রুর উপদ্রব ঘটায়। তবে ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্দিষ্ট রাসায়নিক পদার্থ সমৃদ্ধ ক্রিমই কেবল রং ফর্সা করতে পারে, অন্য কোন কিছু নয়। সম্প্রতি টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বাংলা ভাষা-ভাষী পাঠকদের সুবিধার্থে এই প্রতিবেদনটি অর্থসূচকের পক্ষ থেকে অনুলিখিত হল:

মানুষের গায়ের রং নির্ভর করে মেলানিন নামক এক রঞ্জকের উপস্থিতির ওপর। এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের মানুষের শরীরে এই রঞ্জকের উপস্থিতি বেশি। তাই এই অঞ্চলের মানুষের গায়ের রং সাধারণভাবে কালো, বাদামী কিংবা তামাটে। অন্যদিকে ইউরোপিয়ানদের ত্বকে মেলানিন না থাকায় তাদের গায়ের রং অপেক্ষাকৃত বেশি ফর্সা।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ফর্সাকারী ক্রিমের মতো কৃত্রিম প্রলেপের মাধ্যমে গায়ের রঙের পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব।

এই সম্পর্কে ত্বক বিশেষজ্ঞ যমুনা পাই বলেন, শরীরে টাইরসিনেজ নামক এক ধরনের এনজাইম নিয়ন্ত্রের মাধ্যমে গায়ের পরিবর্তন করা যায়। তিনি জানান, হাইড্রোকুইনোন নামক এক রাসায়নিক এই এনজাইম নিঃসরণে বাধা সৃষ্টি করে। তাই যে সমস্ত ক্রিমে হাইডোকুইনোন আছে, সেগুলো রং পাল্টে দিতে পারে বলে জানিয়েছে তিনি।

মোহন টমাস নামের এক প্রসাধন বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, রং ফর্সা করার জন্য ক্রিম এবং সানস্ক্রিন একসাথে নিয়মিত ব্যবহার করা দরকার। তিনি জানান, রং ফর্সা করার ক্ষেত্রে হাইড্রোকুইনোন, আরবিউটিন ও কোজিক অ্যাসিডের কার্যকারিতা খুবই নগণ্য। তিনি আরও জানান, এই পদার্থগুলো শরীরে মেলানিনের পরিমাণ কমিয়ে দেয়, চূড়ান্ত ফল লাভের জন্য সান্সক্রিনও নিয়মিত ব্যবহার করা উচিত।

সুনিতা মোর নামের আরেক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, ভালো ফল পেতে চাইলে রং ফর্সাকারী ক্রিম দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার করতে হবে এবং কমপক্ষে দুই থেকে তিন মাস।

তবে সব ক্রিমেই এই পদার্থগুলো থাকে না। তাই ক্রিম ব্যবহারের আগে এইসব পদার্থ আছে কিনা তা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা জানিয়েছেন, ক্রিমের পাশ্বপ্রতিক্রিয়া স্বরূপ ব্রণের উপদ্রব অস্বাভাবিক নয়। ক্রিম ব্যবহারে ত্বকের ছিদ্রের মুখ বন্ধ করে হয়ে যাওয়াতে এমনটি ঘটে। এইজন্য ত্বক নিয়মিত পরিষ্কার রাখা দরকার।

যাদের রং প্রাকৃতিকভাবে ফর্সা নয়, তারা ক্রিম ব্যবহার করে ফর্সা হয়ে ওঠলে আরও কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। কারণ, সূর্যের আলো থেকে রক্ষা পেতে প্রাকৃতিকভাবে রং ফর্সা কিংবা কালো হয়। এই যেমন শীতপ্রধান দেশের মানুষের শরীরে দ্রুত ভিটামিন ডি উৎপন্ন করার জন্য রং ফর্সা হয়। আবার ফর্সা ত্বকে বেশি সূর্যালোক পড়লে ক্যান্সার দেখা দিতে পারে। তাই স্বাস্থ্য সচেতনরা ফর্সাকারী ক্রিম এড়িয়ে চলেন। আর আজকাল ফ্যাশন সচেতনদের মাঝেই তামাটে বর্ণ ও রোদপোড়া বর্ণের ব্যাপক কদর। তাই এত ঝুঁকি নিয়ে রং ফর্সা করার কি দরকার?