সংক্রমণ-মৃত্যু কমেছে ভারতে

সংক্রমণ ও মৃত্যু কমতে শুরু করেছে ভারতে। ফলে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫ হাজারের নিচে নেমে এসেছে। মৃত্যুর সংখ্যাও কমতে দেখা গেছে। ফলে গত কয়েক মাস ধরে সংক্রমণ ও মৃত্যু নিয়ে যে পরিমাণ উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল তা কিছুটা হলেও কমেছে। তবে ইতোমধ্যেই দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা চার লাখ পার হয়ে গেছে।

বিশ্বে এর আগে করোনায় চার লাখ মৃত্যুর ভয়াল মাইলফলক পেরিয়েছে কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল। আর আক্রান্তের সংখ্যায় শুধু যুক্তরাষ্ট্রের পেছনে রয়েছে ভারত। দেশটিতে ইতোমধ্যেই তিন কোটির বেশি মানুষ করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া হিসেব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৪ হাজার ১১১ জন। একই সময়ে মারা গেছেন ৭৩৮ জন।

ভারতে গত মে মাসে দৈনিক চার লাখের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন, তবে গত কয়েকদিনে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ভারত সরকার ব্যাপক হারে টিকাদানের উদ্যোগ নিলেও সেখানে যেকোনো মুহূর্তে মহামারির তৃতীয় ঢেউ আঘাত হানার আশঙ্কা করছেন গবেষকরা। দেশটিতে এ পর্যন্ত জনসংখ্যার মাত্র পাঁচ শতাংশ মানুষ দুই ডোজ করে টিকা পেয়েছেন।

দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ৫ লাখ ২ হাজার ৩৬২। এর মধ্যে মারা গেছে ৪ লাখ ১ হাজার ৫০ জন। প্রায় ১২ দিন ধরেই দেশটিতে দৈনিক সংক্রমণের হার তিন শতাংশের নিচে রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের হার ২.৩৫ শতাংশ। সক্রিয় রোগীর সংখ্যাও কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তা কমেছে ১৪ হাজার ১০৪। ফলে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা নেমেছে ৫ লাখের নিচে। এখন দেশে সক্রিয় রোগী রয়েছেন ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫৩৩ জন।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছে ৫৪ হাজারের বেশি মানুষ। ইতোমধ্যেই দেশটিতে সুস্থ হয়ে উঠেছে ২ কোটি ৯৬ লাখের বেশি মানুষ ৫১ দিন ধরেই দৈনিক সংক্রমণের চেয়ে সুস্থতার সংখ্যা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

চলতি বছরের মধ্যেই সব ভারতীয়কে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। তবে সরবরাহ কম ও টিকাদানে ধীরগতির কারণে এ পরিকল্পনার সফলতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৪৪ লাখ মানুষকে ভ্যাকসিনের ডোজ দেয়া হয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ভারতে মোট ৩৪ কোটি ৪৬ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে।

অর্থসূচক/এমএস