আগামি অর্থবছরে পোশাক খাতে রপ্তানি আয় হবে ৩০ মিলিয়ন ডলার

0
108
বাণিজ্যমন্ত্রী রী তোফায়ের আহমেদ
বক্তব্য রাখছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়ের আহমেদ
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়ের আহমেদ
বক্তব্য রাখছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়ের আহমেদ

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন, আগামি অর্থবছরে বাংলাদেশ পোশাক রপ্তানি খাতে আয় করবে ৩০ মিলিয়ন বা তিন কোটি মার্কিন ডলার; যা চলতি অর্থবছরে ২৪ মিলিয়ন ডলার। তিনি আরও জানান, দক্ষিণ আমেরিকার চিলিসহ বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশে বাংলাদেশ এখন নতুন করে জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তনে সাংবাদিক রঞ্জন সেনের লেখা ‘মার্কিন জিএসপি অর্তনীতি না রাজনীতি’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আরও জানান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি সুবিধা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও আগের চেয়ে ২৭৪ বিলিয়ন বেশি রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জিএসপি সুবিধা পেতে যুক্তরাষ্ট্রের ১৬টি শর্তপূরণ সংক্রান্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন এ বছরের ১৫ এপ্রিল মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের আগামি শুনানিতে আমরা আশা করছি বাংলাদেশের জিএসপি পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে যুক্তরাষ্ট্র’। এই মুহূর্তে বন্ধ হওয়া অন্যান্য দেশের মার্কিন জিএসপি সুবিধার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত কংগ্রেস নেবে না বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বন্ধ করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশের সরকার ও বেসরকারের নানা উদ্যোগ গ্রহণের ফলে সেসময় এই সুবিধা আবার ফিরেও পেয়েছিল। আশা করি আমাদের প্রতিবদেন পর্যবেক্ষণ করে মার্কিন কংগ্রেস জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল করবে’।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ও যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত  হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমাদের আত্মসমালোচনা করা প্রয়োজন। আমরা যতই বলি যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতকি কারণে আমাদের জিএসপি সুবিধা বন্ধ করেছে-তা যুক্তিযুক্ত হবেনা। কারণ কাদায় পরলে সবাই লাথি মারে। তাই কাদায় যাতে না পরতে হয় সেজন্য সজাগ থাকা দরকার। আমরা যথসময়ে সজাগ হতে না পারায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে এখান থেকে বের হওয়ার সুযোগ অবশ্যই আছে’।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘অর্থনীতি ও রাজনীতি একটির দ্বারা আরেকটি প্রভাবিত। সে কারণে চীনে প্রতিবছর শ্রমিক দূর্ঘটনা হওয়ার পরেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের (চীনের) সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে। কারণ তারা অর্থনৈতিকভাবে একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। আর এই অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা দুই দেশের রাজনীতিতেই প্রভাব ফেলেছে’।

প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিবিদ আহসান মনসুর, রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শিদি, ঐতিহ্য প্রকাশনীর কর্ণধার আরিফুর রহমান নাইম, ফ্রান্স চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এনায়েতুর রহমান, সাংবাদিক রঞ্জন সেন প্রমুখ।

বক্তারা ‘মার্কিন জিএসপি অর্থনীতি না রাজনীতি’ বইয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

এসএসআর/ এআর