লেনদেন নিয়ে গুজব ছড়ানোর অবকাশ নেইঃ রকিবুর রহমান

করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমন নিয়ন্ত্রণে আনতে আগামী সোমবার শুরু হচ্ছে সরকার ঘোষিত এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ তথা লকডাউন। এই লকডাউনে জরুরি পরিষেবা ছাড়া বাকী সব সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে বলে শুক্রবার জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন। কিন্তু আজ শনিবার (২৬) জুন রাত পর্যন্ত এই বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় বাস্তবে কী কী খোলা থাকবে, আর বন্ধ থাকবে কোন কোন অফিস তা স্পষ্ট হচ্ছে না।

এদিকে লকডাউনে পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ থাকতে পারে বলে কেউ কেউ গুজব ছড়াচ্ছেন। করোনার প্রথম দিকে গত বছর কিছুদিন পুঁজিবাজার বন্ধ থাকায় এই গুজবে সহজেই কান দিচ্ছেন অনেক বিনিয়োগকারী। যদিও বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম দৃঢ়ভাবে বলেছেন, লকডাউনে ব্যাংক খোলা থাকলে পুঁজিবাজারও খোলা থাকবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক ও সাবেক সভাপতি মোঃ রকিবুর রহমানও আজ (২৬ জুন) রাতে অর্থসূচককে বলেছেন, লকডাউনে ব্যাংক খোলা থাকলে পুঁজিবাজারও খোলা থাকবে। আগেরবার বাজার বন্ধ রাখার বিষয়ে তখনকার কমিশনের সিদ্ধান্ত ছিল মারাত্মক ভুল, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে আমাদের বাজার সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা দিয়েছে। বর্তমান কমিশন নিশ্চিতভাবেই ওই ভুল করবে না।

তিনি বলেন, অনেকে বাজার বন্ধ থাকতে পারে বলে অকারণে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। কিন্তু দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, লকডাউনে পুঁজিবাজার বন্ধ থাকবে এমন বিভ্রান্তি বা গুজব ছড়ানোর কোনো অবকাশ নাই। কোনো বিনিয়োগকারীর উচিত হবে না এমন গুজবে কান দেওয়া।

তিনি বলেন, লকডাউনে ব্যাংকে লেনদেনের সময়সূচি কী হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক এটি চূড়ান্ত করবে। আর এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে পুঁজিবাজারে লেনদেনের সময়সূচি নির্ধারণ করবে বিএসইসি।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যত কঠোর লকডাউনই হোক না কেন, ব্যাংক চালু থাকবে। তবে লেনদেনর সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে লকডাউন সংক্রান্ত মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন দেখার পর।

তারা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলা হয়েছে, লকডাউনে জরুরি পরিষেবা চালু থাকবে। ব্যাংকিং এই জরুরি সেবার অন্তর্গত। তাছাড়া আগামী সপ্তাহে জুন ক্লোজিং। এ সময়ে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব মেলানোর বিষয় থাকে। তাই এ সময়ে লেনদেন বন্ধ রাখার কোনো সুযোগ নেই। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় কমানো হতে পারে লেনদেনের সময়সীমা।