বাসস্ট্যান্ডের খুঁটিতে বাঁধা শিশুর জীবন

0
110
disabled child
বোবা লক্ষণ খেল
disabled child
বাক প্রতিবন্ধী লক্ষণ খেল

এখনও দুধের দাঁত পড়েনি। দেখতে অন্য শিশুদের মতোই। শুধু কথা বলতে পারে না ও কানে শোনে না। চোখে থাকে বিষণ্নতা। নাম লক্ষণ খেল। বয়স ৯ বছর। ভাগ্যজোরে সারাদিন ঠাঁই হয় বাসস্টপে। কিন্তু সেখানেও স্বাভাবিক নয়। ছোট বেলায় মা-বাবাকে হারানোর পর একমাত্র অবলম্বন হয়ে দাঁড়ায় তার ৬৩ বছরের বৃদ্ধা দাদি। তারও করুন পরিণতি। রাস্তার ধারে ধারে খেলনা বিক্রি করে খেতে হয়। তাই নিরাপত্তার খাতিরে লক্ষণকে দড়ি দিয়ে বেধে রেখে যান স্ট্যান্ডের খুঁটিতে। চিত্রটি ভারতের মুম্বাইয়ের।

দাদি সখুভাই খেল (৬৬) জানান, এই ছাড়া আমার আর কি করার আছে! আমি ঘরছাড়া মানুষ, শশ্মানে যাওয়ার উপক্রম। সে তো কথা বলতে পারে না। যদি হারিয়ে যায়, কাউকে বলতেও পারবে না। তাই নিরাপত্তার জন্য কাজে যাওয়ার আগে তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখি।

তিনি আরও বলেন, লক্ষণের বাবা কয়েক বছর আগে মারা গেছে। তারপর মাও ঘর ছেড়েছে। এখন বাধ্য হয়ে নাতিকে দেখতে হচ্ছে। কয়েকদিন আগে তার একটি ছবি স্থানীয় পত্রিকায় ছাপা হয়। এরপর বিষয়টি বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা ও পুলিশের নজরে আসলে তাকে সরকারি একটি চাইল্ড কেয়ারে নেওয়া হয়। কিন্তু সমাজকর্মীরা বলছেন, শুধু লক্ষণ নয় ভারতে স্টেশন, রাস্তায়, বাসস্ট্যান্ডে তার মতো বহু বাক প্রতিপন্ধী শিশু এমন নিমর্মতার শিকার।

disabled child 2
দাদির সাথে লক্ষণ খেল

সখুভাই খেল জানান, কাজ শেষে যখন ঘরে ফিরি তখন অনেক ক্লান্তি লাগে। এরপর ঘুমানোর সময়ও তার পায়ে দড়ি বাঁধি। সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকি, কোনো জায়গায় চলে যেতে পারে এই ভয়ে। তিনি বলেন, আমি একা মানুষ, কখন মরি, তার ঠিক নেই । পত্রিকায় তার ছবি আসার আগে তার দিকে কেউ তাকায়নি। একসময় তাকে স্কুলে ভর্তি করা হয়েছিল কিন্তু স্কুলও তাকে ফেরত পাঠিয়েছে বলে জানান তিনি।

চাইল্ড কেয়ারের একজন কর্মকর্তা জানান, ভারতে প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি এমন প্রতিবন্ধী প্রতিনিয়ত এমন নির্মমতা ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তিনি আরও জানান, শুধু সরকারি প্রচেষ্ঠা নয়, বেসরকারি ও ব্যক্তিগতভাবে আমাদের উচিত এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের দু:খ ভাগাভাগি করা।

শুধু ভারত নয়, আমাদের দেশেও রয়েছে এমন লাখ লাখ প্রতিবন্ধী শিশু। ভাগ্য যাদের করুন পরিণতি। বিশ্ব থেকে এই নির্মমতা বিদায় নিক- এই প্রত্যয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত সবার।

এস রহমান/