ইন্টারভিউতে ঘাবড়ালেন তো সুযোগ হারালেন

0
200
সাক্ষাতকারে আত্মবিশ্বাসী থাকা ভালো
সাক্ষাতকারে আত্মবিশ্বাসী থাকা ভালো
সাক্ষাতকারে আত্মবিশ্বাসী থাকা ভালো
সাক্ষাতকারে আত্মবিশ্বাসী থাকা ভালো

চাকরির ক্ষেত্রে ইন্টারভিউ বা সাক্ষাতকার পর্বটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাগত দিক থেকে প্রায় সমান যোগ্যতার প্রার্থীরাই এ পর্ব পর্যন্ত আসতে পারেন। তাদের মধ্যে নিজেকে অধিকতর যোগ্য, দক্ষ ও চৌকষ হিসেবে তুলে ধরার এটি একটি বড় সুযোগ। অনেক নিয়োগকর্তা সার্টিফিকেটের যোগ্যতার চেয়ে প্রার্থীর স্মার্টনেস, বাস্তব জ্ঞান ও চাপ নেওয়ার সক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এসব বিষয়ের আলোকে সাক্ষাতকারের মাধ্যমে সেরা প্রার্থীটিকে বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। কিছু ছোটখাট বিষয়ে মনোযোগী হলে ইন্টারভিউতে আপনিও অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারেন।

# নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রাখবেন। মনে রাখবেন আপনার যোগ্যতা আর মেধার কারণেই ইন্টারভিউ বোর্ড পর্যন্ত এসেছেন। অন্যদের যোগ্যতা আপনার চেয়ে বেশি নয়। অন্যরা পারলে আপনিও পারবেন। ইন্টারভিউ বোর্ডের সদস্যরা নানাভাবে আপনাকে বাজিয়ে দেখার চেষ্টা করতে পারে। চাপে আপনি ভেঙ্গে পড়েন কি-না সেটা দেখাই উদ্দেশ্য। তাই মোটেও ঘাবড়াবেন না। মনে রাখবেন, বোর্ড সদস্যরা আপনার প্রতিপক্ষ নয়।

# নির্ধারিত সময়ের আগে সংশ্লিষ্ট অফিসে পৌঁছে যাবেন। রাস্তায় যানজট থেকে শুরু করে নানা অনাকাঙ্খিত সমস্যা থাকতে পারে। তাই কিছুটা বাড়তি সময় নিয়েই বাসা থেকে বের হবেন। তাতে বোর্ডের সামনে উপস্থিত হওয়ার আগে সামান্য বিশ্রামের সুযোগও হয়ে যাবে। ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনাকে তুলনামূলক সজীব লাগবে।

# পোশাক অবশ্যই পরিচ্ছন্ন হতে হবে। ফরমাল পোশাকে যেতে হবে বোর্ডে। ফুলহাতা শার্টের সঙ্গে টাই হলে বেশ ভালো হয়। তরুণীরা শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজ যে কোনোটি বেছে নিতে পারেন।

# বোর্ডে যাওয়ার সময় সঙ্গে একটি ফাইলে যোগ্যতা সংশ্লিষ্ট সব সনদপত্র, একটি নোটপ্যাড, বাড়তি সিভি রাখবেন। আপনার সঙ্গে যেনো একটি কলমও থাকে।

# বোর্ডের সামনে যাওয়ার আগে অবশ্যই মোবাইল ফোনটি সাইলেন্ট করে নেবেন। ইন্টারভিউ চলাকালীন সময়ে ফোনের রিং বাজলে সেটি বিরক্তির কারণ হতে পারে।

# কক্ষে প্রবেশের সময় আস্তে দরজা ঠেলে ঢুকুন। ঢুকে নিজেই দরজাটি চাপিয়ে দিন। বোর্ড সদস্যদের সালাম দিয়ে বসতে বলার জন্য অপেক্ষা করুন। বসতে বলা হলে তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে সাবধানে চেয়ারে বসুন। চেয়ার সরিয়ে বসতে হলে সাবধানে সরিয়ে নিন যাতে বিরক্তিকর কোনো শব্দ না হয়। বসতে না বললে বসবেন না। তবে তাদের কাছে বসার অনুমতি চাইতে পারেন।

# সোজা হয়ে বসবেন। আপনার বসার ভঙ্গীর মধ্যে ঋজুতা থাকা ভালো। এতে আপনার শারীরিক ও মানসিক ফিনটেস প্রতিফলিত হবে। চেয়ারে বসে নিজের উরুর উপর হাত রাখুন। টেবিলে হাত বা কনুই রাখবেন না। তরুণীদের সঙ্গে সাধারণত ব্যগ থাকে। ব্যাগটি চেয়ারের পাশে নিচে নামিয়ে রাখা ভালো।

# যে প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করেছেন, ইন্টারভিউতে যাওয়ার আগেই তার সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজ-খবর নেবেন। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হলে সেটি কি ধরনের ব্যবসা করে, উৎপাদিত পণ্য বা সেবা তালিকা কি কি আছে, বাজারে প্রধান প্রতিযোগী কারা সে বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা থাকা ভালো। অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়ের সাফল্যের জন্য সরকারি-বেসরকারি কিছু স্বীকৃতি পেয়ে থাকে। ইন্টারভিউতে কৌশলে এসব সম্পর্কে জানতে চাওয়া হতে পারে। আর এমনটি হলে বোর্ড সদস্যদের মনোযোগ কাড়ার জন্য সেটি হবে সবচেয়ে বড় সুযোগ।

# স্বেচ্ছাসেবি প্রতিষ্ঠান বা এনজিও হলে সেটি যেসব খাত নিয়ে কাজ করে সে সম্পর্কে জানার চেষ্টা করুন।চলমান সামাজিক বড় ইস্যুগুলো সম্পর্কে ধারণা রাখুন। ইন্টারভিউতে এসব ইস্যু উঠে আসতে পারে।

# প্রশ্নকর্তার চোখে চোখ রেখে উত্তর দেওয়া ভালো। এটি আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটায়। তাছাড়া এক ধরনের নৈকট্য তৈরি করে।

# উত্তর ছোট ও বিষয়ভিত্তিক হওয়া ভালো। অবশ্য কোনো ইস্যুতে যদি প্রার্থীর মতামত বা কোনো সমস্যার সমাধান, ভবিষ্যত পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হয় সে ক্ষেত্রে উত্তর একটি দীর্ঘ হলে সমস্যা নেই। তবে খেয়াল রাখতে হবে এ বক্তব্য যেন যৌক্তিক ও তথ্যপূর্ণ হয়। উত্তরের মধ্যে ধারাবাহিকতা থাকে। কোনোভাবেই যেনো অসংলগ্ন হয়ে না পড়ে।

# কোনো উত্তর জানা না থাকলে তাতে বিব্রত হওয়া বা ভয় পাওয়ার কিছু নেই। একজন মানুষ সব বিষয় জানবেন এমন নয়। এ ক্ষেত্রে বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করে নেওয়াই ভালো। অস্পষ্ট ধারণা নিয়ে উত্তর দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা হবে বোকামী।

# বাংলায় প্রশ্ন করলে ইংরেজিতে উত্তর না দেওয়াই ভালো। কিন্তু ইংরেজিতে প্রশ্ন করলে তার উত্তরও ইংরেজিতে দিতে হবে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বোর্ডের অনুমতি নিয়ে বাংলায়ও উত্তর দেওয়া যেতে পারে।

#