‘রাজনৈতিক কারণে হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রভাবিত হচ্ছে’

0
94
mizanur rahman
ড. মিজানুর রহমান: ফাইল ছবি
ড. মিজানুর রহমান
ড. মিজানুর রহমান

সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড ও অপরাধগুলোকে রাজনৈতিক দিক থেকে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাই এসব অপরাধের তদন্ত কাজ বিভিন্নভাবে প্রভাবিত হয়ে ধীর গতিতে চলছে বলে মন্তব্য করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান।

রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, কমনওয়েলথ হিউম্যান রাইটস ইনিশিয়েটিভ আয়োজিত বাংলাদেশের পুলিশের জবাবদিহি শীর্ষক এক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন নই, কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমরা যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। তবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে মানবাধিকার পরিস্থিতির গভীর সম্পর্ক রয়েছ।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের ঘটনায় মানবাধিকারের লঙ্ঘন নয়। আইন-শৃংখলার অবনতি হওয়ার কারণেই এসব ঘটনা ঘটছে।

র‌্যাবের পুনর্গঠনের মাধ্যমে এই সংকট কাটানো সম্ভব উল্লেখ করে ড. মিজানুর রহমান বলেন, র‌্যাবের কাজ পুনর্মূল্যায়ন, ফের গঠন ও পরিমার্জন করে বিদ্যমান এসব সংকট কাটানো সম্ভব।

কোনো অপরাধীকে গ্রেপ্তার না করা আইন ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলেও মনে করেন তিনি।

পুলিশের জবাবদিহিতাকে আরও শক্তিশালী করা প্রসঙ্গে মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে মানুষ বিচারের জন্য পুলিশের কাছেই যায়। তাই পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সম্পর্কিত অন্যান্য বাহিনীর জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা যাবে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের গবেষক এবং প্রশিক্ষণ প্রধান জন অসিত দাশ বলেন, ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে পুলিশের অনীহা দেখা যায়। ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আসলে পুলিশ তার কাজের ক্ষেত্রে সক্রিয়তা হারায়। আবার দুর্নীতিবাজ এবং ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রিপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে ভূল তথ্য দেওয়া হয়।

ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, রিমান্ডের নামে যখন নির্যাতন করা হয় সেখানেই আমাদের আপত্তি। রিমান্ডের বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই। রিমান্ডে নেওয়ার পর মানবাধিকারের লঙ্ঘন হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারেই আমরা উদ্বিগ্ন।

ব্যারিস্টার সারা হোসেনের কথার পরিপ্রেক্ষিতে ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (অপরাধ তদন্ত বিভাগ) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, রিমান্ডের নির্দেশ পাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা বিচার বিভাগের উপর নির্ভরশীল। রিমান্ডে নেওয়ার কারণে যদি কোনো আসামির ক্ষতি হয় তবে তার দায় পুরোপুরি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার। তবে এখানে একটি দেখার বিষয় হচ্ছে তদন্ত কাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে আমাদের ওপর চাপ থাকে।

ভারতের সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ভ্রিন্দা গ্রোভার বলেন, মানবাধিকার ভারত এবং বাংলাদেশের মত গণতান্ত্রিক দেশের মানুষের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। এই অধিকার মূলত লঙ্ঘিত হয় মানবাধিকার রক্ষায় নিয়জিত সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের অবহেলার কারণে।

তিনি আরও বলেন, ফৌজদারী আইনে বলা আছে গ্রেপ্তারের পর একজন আসামীকে বাধ্যতামূলক ভাবে মেডিকেল টেস্ট করার নিয়ম রয়েছে। এটি গ্রেপ্তারকৃতের মানবাধিকার। আবার গ্রেপ্তারের আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় দেওয়াও আইনীভাবে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে এই সকল বিষয়ের প্রয়োগ খুব একটা দেখা যায়না।

এই সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন- সাবেক বিচারপতি আব্দুল মতিন, এ্যাডভোকেট ফজলুল হক, পুলিশ স্টাফ কলেজের পরিচালক নজরুল ইসলাম, এ্যাডভোকেট জিয়া খান পান্না প্রমুখ।

জেইউ/