বান্ধবী অবন্তিকাকে সাড়ে চার কোটি টাকার ‘ফ্লাট’ উপহার দেন পিকে হালদার

প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত বিদেশে পাড়ি দেয়া ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার) বান্ধবী অবন্তিকা বড়ালকে ধানমন্ডিতে চার কোটি ৩৫ লাখ টাকার বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনে দিয়েছিলেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত ১৩ জানুয়ারি পিকে হালদার সংশ্লিষ্টতায় বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ অবন্তিকা বড়ালকে গ্রেফতার করে দুদক।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে চার কোটি ৩৫ লাখ টাকায় ধানমন্ডির ১০নং রোডে প্রায় তিন হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কিনে অবান্তিকাকে উপহান দেন পিকে হালদার। বিল্ডিং টেকনোলজি অ্যান্ড আইডিয়াস লিমিটেড (বিটিআই) থেকে ক্রয় করা ফ্ল্যাটটির মূল্য পরিশোধ হয় নগদ ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে। পুরো অর্থই আসে পিকে হালদারের বিভিন্ন হিসাব থেকে। পিকে হালদারের সুখাদা লিমিটেড ও হাল ইন্টারন্যাশনাল নামে দুটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে গ্রেফতার অবন্তিকা বড়ালের বিনিয়োগ আছে।

এ বিষয়ে দুদক সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার জানান, পিকে হালদারের ইস্যুটা অনেক বড়। বিভিন্ন জনের মাধ্যমে তার বিভিন্ন দিকে সূত্র আছে। ইতোমধ্যে অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মোটামুটি ৬২ জনের সঙ্গে পিকে হালদারের যুক্ততা পাওয়া গেছে। এসব তথ্য আমাদের তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন। বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা পিকে হালদারের প্রায় এক হাজার ৫৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে।

কে এই অবান্তিকা বড়াল?

পিকে হালদারের ঘনিষ্ঠজন শংখ বেপারীকে জিজ্ঞাসাবাদে অবান্তিকা বড়াল বিষয়ে তথ্য বের হয়ে আসে। এরপরই তার বিষয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু হয়। অবান্তিকা ও পিকে হালদার উভয়ের বাড়ি পিরোজপুর।

পিকে হালদারের বাড়ি জেলার নাজিরপুরের দিঘিরজান গ্রামে। এলাকার মেয়ে হিসেবে অবান্তিকার সঙ্গে পরিচয় তার। অবন্তিকার বাবা ছিলেন কলেজশিক্ষক। তিনি মারা হওয়ার পর অবন্তিকা ও তার পরিবার জেলা শহর ছেড়ে ঢাকায় চলে আসেন। এরপরই অবন্তিকার সঙ্গে পিকে হালদারের ঘনিষ্টতা হয়। পিকে হালদারের কাছ থেকে অনেক সুবিধা নিয়েছেন তিনি। একইভাবে নিজের অবৈধ সম্পদ আড়াল করেছেন এই অবন্তিকার মাধ্যমে।

পিকে হালদারের অর্থপাচার ও প্রতারণার মামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেফতার অবন্তিকা বড়াল বর্তমানে কারাগারে আছেন। ইতোমধ্যে তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। চলতি সপ্তাহের যেকোনো দিন তাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করবে তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল।

অর্থসূচক/এমএস

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •