রেকর্ড উদ্বৃত্তের আশার পরও বাড়ছে চালের দাম

0
244

বাংলাদেশের ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট পাঁচ মাসে আগে আভাস দিয়েছিলো যে এ বছরের শেষে প্রায় সাড়ে ৫৫ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকবে, অথচ বাজারে সব ধরণের চালের দামই বেড়ে যাছে।

চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিলগুলো দাম বাড়িয়ে দেওয়ার প্রভাব পড়েছে বাজারে। আর মিল মালিকরা বলছেন, ধানের সরবরাহ কম। তবে এ সংকট সাময়িক কারণ কয়েকদিন পরেই নতুন চাল বাজারে আসবে।

তবে সারা বছরের উৎপাদন ও চাহিদা বিবেচনা করলে দেশে খাদ্য ঘাটতির আপাতত কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)।

সংস্থাটি আরও বলছে, আগামী জুন পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য চাহিদা পূরণ করেও কমপক্ষে ৩০ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকবে।

এ বিষয়ে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট গত একমাস ধরে দেশের ১৪টি কৃষি অঞ্চলে জরিপ করে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সত্যতা পেয়েছে। সুতরাং সারাদেশে চালের উৎপাদন কম এবং খাদ্য ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কার কথা যেভাবে ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে তা আদৌ ঠিক নয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমনটিই জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই গবেষণায় বাংলাদেশের ১৪টি কৃষি অঞ্চল থেকে সর্বমোট ১ হাজার ৮০০ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি ৫৬ জন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ১১২ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে ধানের আবাদ ও বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ওই গবেষণা কাজে সরাসরি এবং টেলিফোন সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যে বছরগুলোতে বন্যা আক্রান্ত হয়েছিল তার পরবর্তী বছরে ধানের উৎপাদন বিভিন্ন হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বৃদ্ধির পেছনে বন্যা পরবর্তী বছরে সরকারের বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ এবং ধানের বাড়তি দাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ব্রি’র গবেষণায় দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় ১৪টি কৃষি অঞ্চলের মধ্যে এ বছর আমনের ফলন দিনাজপুরে ১১.১ শতাংশ, খুলনায় ৭.১ শতাংশ, চট্টগ্রামে ১.৩ শতাংশ এবং যশোরে ৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে বাকি ১০টি কৃষি অঞ্চলে আমন ধানের ফলন বিভিন্ন হারে কমেছে।

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখা গেছে, এ বছর বন্যার ক্ষয়ক্ষতি বাদে আমন ধানের অর্জিত এলাকা ছিল ৫৭.৮৫ লাখ হেক্টর। উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে আরও দেখা গেছে যে, বিভিন্ন ধরনের বন্যাপ্রবণ এলাকায় আমন ধানের আবাদ হয়েছিল যথাক্রমে বন্যা অনাক্রান্ত এলাকার ২১.৫ লাখ হেক্টর, অল্প বন্যা আক্রান্ত এলাকার ১৬ লাখ হেক্টর, মধ্যম মানের বন্যা আক্রান্ত এলাকার ১৪.৩ লাখ হেক্টর এবং অতি বন্যা আক্রান্ত এলাকার ৬ লাখ হেক্টর।

এ বছর পাঁচ থেকে ছয় ধাপে মোট ৩৫ জেলায় বন্যা হয়েছিল। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, বন্যায় আমন আবাদের মোট ক্ষতি হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার হেক্টর। বন্যা আক্রান্তের মাত্রা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যে এলাকায় বন্যা হয়নি সেখানে ধানের ফলন প্রায় ৪.৪ শতাশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কম, মাঝারি ও অতি বন্যাপ্রবণ এলাকায় যথাক্রমে ধানের ফলন ০.৬, ১৩.৪ ও ২৪.১ শতাংশ কম হয়েছে।

চালের হিসাবে এ বছর আমনের গড় ফলন হবে প্রতি হেক্টরে ২.৩০ টন। বিভিন্ন বন্যাপ্রবণ এলাকাভেদে হিসাব করলে দেখা যায়, যে এলাকায় বন্যা হয়নি সেখানে গড় ফলন হয়েছে প্রতি হেক্টরে ২.৬৯ টন, কম বন্যা আক্রান্ত এলাকায় ২.৪২ টন, মাঝারি বন্যা আক্রান্ত এলাকায় ২.১৮ টন এবং প্রবল বন্যা আক্রান্ত এলাকায় ১.৯৪ টন।

উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত আবাদকৃত এলাকা এবং উপরোক্ত ফলন বিবেচনায় নিয়ে আমন ধান উৎপাদন প্রাক্কলন করলে দেখা যায় যে, এ বছর চালের উৎপাদন গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০.০৬ শতাংশ কম হয়েছে। বন্যার পাশাপাশি এ বছর ধান উৎপাদনে বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূলতা দেখা গেছে, যার মধ্যে কোভিড-১৯, আম্পান, অতি বৃষ্টি এবং বিভিন্ন রোগবালাই উল্লেখযোগ্য।

চালের হিসাবে এ বছর আউশ, আমন ও বোরো মিলিয়ে মোট চাল উৎপাদন হবে ৩৭.৪২ মিলিয়ন টন। চাহিদা ও যোগানের অবস্থা বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, ডিসেম্বর ২০২০ থেকে জুন ২০২১ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ চালের চাহিদা মিটিয়ে ব্রি’র হিসাবে কমপক্ষে ৩০ লাখ টন চাল উদ্ধৃত্ত থাকবে। এক্ষেত্রে মাথাপিছু দৈনিক ৪০৫ গ্রাম চাল ধরে সর্বমোট ১৬৭ মিলিয়ন জনসংখ্যার জন্য এই হিসাব করা হয়েছে।

অর্থসূচক/কেএসআর