মানসিক অত্যাচার সইতে না পেরে আমিরের অবসর

0
282

বুধবার রাতেও লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের ফাইনাল খেলার সময় মোহাম্মদ আমিরের নামের পাশে ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের তকমা। রাত পার হয়ে পরেরদিন বিকেল গড়াতেই তার নামের পাশ থেকে তা উঠে গেল। কারণ ক্ষোভে-অভিমানে যে ক্রিকেটকে বিদায় বলে বসেছেন পাকিস্তানের এই পেসার।

বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুর নাগাদ আমির জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিরতিতে যাচ্ছেন তিনি। ঘন্টা দুইয়েক পার না হতেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দেশের হয়ে আর কোনোদিন ক্রিকেট খেলবেন না বাঁহাতি এই পেসার। আমিরের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে পিসিবি আরও বলেছে, এটা তার ব্যক্তিগত মতামত।

গেল বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর পরই ছোট সংস্করণের ক্রিকেটে মনোযোগী হতে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছিলেন আমির। এখান থেকেই শুরু হয় সব কিছুর সূত্রপাত। অবসর নেওয়ায় নানা ধরণের সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এমনকি রঙ্গিন পোশাকেও অনিয়মিত হয়ে পরেন আমির। জায়গা হয়নি নিউজিল্যান্ড সিরিজের স্কোয়াডেও।

আমির সেই ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমার মনে হয় না এই টিম ম্যানেজমেন্টের অধীনে আমি খেলা চালিয়ে যেতে পারবো। এই সময়ে আমি ক্রিকেট ছাড়ছি কারণ। আমাকে মানসিকভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে। আমার মনে হয় না আমি এই ধরণের অত্যাচার আরও সহ্য করতে পারবো। কারণ ইতোমধ্যেই ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আমাকে অনেক বেশি মানসিকভাবে অত্যাচার করা হয়েছে।’

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) দিয়ে ক্রিকেটে ফিরেছিলেন আমির। ২০১৫ মৌসুমে চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই তাঁর জন্য জাতীয় দলের দরজা উন্মুক্ত করে দিয়েছিলো। আমির বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা কাটানোর পর আমি যখন কোথাও খেলার সুযোগ পাচ্ছিলাম না, বিপিএল আমাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছিলো। সেখানকার পারফর্ম্যান্স আমাকে জাতীয় দলে নিয়ে এসেছিলো। সে সময়েও দলের কেউ আমার সঙ্গে খেলতে চায়নি। কিন্তু সেসময় আমার পাশে শেঠি সাহেব ও আফ্রিদিকে পেয়েছিলাম। তাদের সমর্থন পেয়েই আমি দেশকে আবারো প্রতিনিধিত্ব করেছি।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের সময় তিনি কোচ হিসেবে পেয়েছিলেন মিকি আর্থারকে। তিনি এই বোলারের উপরে পূর্ণ আস্থা রেখেছিলেন। তাঁর সান্নিধ্যে নিজের পুরোনো বিধ্বংসী রূপে ফিরে গিয়েছিলেন। তৎকালীন কোচ আর্থার আমিরকে ঘিরেই সাজিয়েছিলেন তাঁর বোলিং আক্রমণ। ২০১৬ এশিয়া কাপে ফাইনালে খেলতে ব্যর্থ হলেও দীর্ঘ সময় নিরাশ করেননি এই বোলার। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী দলের অন্যতম কুশীলব ছিলেন এই বাঁহাতি। চির প্রতিদ্বন্ধী ভারতকে হারিয়ে সকলকে অবাক করে চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরেছিলো পাকিস্তান। যদিও ২০১৯ সালের পরে এই কোচের সঙ্গে চুক্তি নবায়ণ করেনি পিসিবি। এরপরেই দলে অনিয়মিত হয়ে পড়েন আমির।

আমির আরও বলেন, ‘আমি একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম কিন্তু সেটিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তাদের মতে আমি আমার দেশের হয়ে খেলতে চাই না। কিন্তু সেটি কে না চায়? আমার প্রত্যাবর্তন হয়েছিলো লিগে খেলে। আমি সেখানে খেলে নিজের বোলিং ধার বাড়িয়ে দেশের হয়ে আরো ভালো খেলতে চাই।’

‘বোলিং কোচ মাঝে মাঝে বলেন আমি আমার দেশকে ফাঁকি দিচ্ছি, কখনো সে আমার কর্মভার নিয়ে কথা বলেন। কখনো সে বলে আমি তাঁর পরিকল্পনায় নেই। এটি আমার জন্য একটি সতর্কবার্তা, যে আমি তাদের পরিকল্পনায় নেই। একারণেই আমি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি’ আরও যোগ করেন এই পেসার।

অর্থসূচক/এএইচআর