বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কলঙ্ক ‘সীমান্ত হত্যাকাণ্ড’

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
240
ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত উষ্ণ, কিন্তু সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের মতো নেতিবাচক কিছু উপাদানের জন্য এটি কলঙ্কিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

আজ বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সীমান্ত হত্যাকাণ্ডসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধান না হওয়া প্রসঙ্গে আব্দুল মোমেন বলেন, আমরা বাংলাদেশি লোক, আমাদেরও হতাশ করে। তবে আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনার মাধ্যমে এটির সমাধান করা সম্ভব। আমরা অনেক দূর অগ্রসর হয়েছি। আজকেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী অঙ্গীকার করেছেন—‘কোনও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হবে না।’ আমরা তাদের বিশ্বাস করতে চাই। আমরা চাই না একজন লোকও সীমান্তে মারা যাক। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ ধরনের ঘটনা সময়ে সময়ে হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে এত সুন্দর সম্পর্ক। কিন্তু এগুলো সম্পর্কে কলঙ্ক তৈরি করে।

মন্ত্রী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন—প্রাণঘাতী নয় (নন-লিথেল) এমন অস্ত্র ব্যবহার হবে।

বিএসএফ ঘুষ খায় এ সম্পর্কিত অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটি সাংবাদিকদের ইস্যু। আমরা শুনেছি পত্রপত্রিকার মাধ্যমে, বিএসএফ ঘুষ খায় এবং এই ব্যবসায় প্ররোচিত করে। কিন্তু এই বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের আরও লেখা উচিত।

তিস্তা চুক্তি নিয়ে কথা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি আমরা তুলেছি। তিস্তা নিয়ে আগেই ভারতের সরকার রাজি হয়ে আছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা বলেছি, তিস্তা ইস্যু তুলে আপনাদের লজ্জিত করতে চাই না। তবে এটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে আমরা বাকি ছয়টি নদীর কথা জিজ্ঞাসা করেছি। তারা একলাইনে উত্তর দিয়েছেন।

ট্রানজিট নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা নেপাল ও ভুটান পর্যন্ত কানেক্টিভিটি চাই এবং আজকে এটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতীয়রা আজকে বলেছেন, তারা বাড়তি ফ্লাইট দেবেন। কিন্তু আমরা বলেছি, আমাদের লোক যায় সড়ক এবং রেল দিয়ে। এগুলো আগে চলাচল শুরু করেন।

ভারত কী চেয়েছে জানতে চাইলে আব্দুল মোমেন বলেন, ভালো সম্পর্ক বলে তারাও অনেক কিছু পেয়েছে। তাদের পূর্ব সীমান্তে কোনও ঝামেলা নেই এবং এর থেকে বড় কিছু পাওয়ার আছে? কানেক্টিভিটির কারণে তাদের ও আমাদের জিনিস বিক্রি হয় এবং এটি খুব ভালো। কানাডা ও আমেরিকার মধ্যে সম্পর্ক ভালো হওয়ার কারণে ব্যবসা তুঙ্গে এবং আমরাও চেষ্টা করছি। আমাদের লোকজন সেখানে (ভারতে) স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার জন্য যায়। আবার তাদের অনেক লোক এখানে চাকরির জন্য আসে। এটি আমরা বলেছি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বৈঠকে ব্রিকস ব্যাংকে যোগদানের জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) ভার্চ্যুয়ালি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় দুই প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বসেন তারা। এক ঘণ্টা ১৫ মিনিটের বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

অর্থসূচক/কেএসআর