পন্টিংয়ের নতুন অভিষেক!

0
236
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং।

গোলাপি বলের দিবা-রাত্রির টেস্ট ম্যাচ দিয়ে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে অস্ট্রেলিয়া-ভারতের চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। যা বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি নামে পরিচিত। আর এই সিরিজ দিয়েই ধারাভাষ্যকার হিসেবে অভিষেক হতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের। ভারতের লিটল মাস্টার সুনিল গাভাস্কারের সঙ্গে ধারাভাষ্য দিতে উন্মুখ হয়ে আছেন তিনি।

খেলোয়ার, অধিনায়ক ও কোচের ভূমিকা সফলভাবে পালনের পর তিনি নতুন দায়িত্বে কাজ করতে চলেছেন। চলমান সিরিজের চারটি টেস্টেই গাভাস্কারের সঙ্গে তাঁকে ধারাভাষ্য কক্ষে দেখা যাবে। যে জীবন্ত কিংবদন্তির নামে এই সিরিজ, তাঁর সঙ্গে ধারাভাষ্য করতে অপেক্ষার প্রহর গুণছিলেন তিনি। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় পরে টেস্ট ম্যাচে মাঠে দর্শক ফিরেছে। এই বিষয়েও রোমাঞ্চিত সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক।

এ প্রসঙ্গে পন্টিং বলেছেন, ‘প্রথমবারের মতো এই মানুষটির (সুনিল গাভাস্কার) সঙ্গে ধারাভাষ্য করার জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছি না। ১০ মাসের মধ্যে প্রথম দর্শকদের সঙ্গে মাঠে ফিরতে পেরে আমি উদ্দীপ্ত। আমার মতে, ২-১ এ সিরিজ জিতবে অস্ট্রেলিয়া।’

২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সিরিজের ট্রফি উঠেছিলো বিরাট কোহলির হাতে। স্টিভেন স্মিথ- ডেভিড ওয়ার্নারবিহীন দলকে তাঁরা হারিয়েছিল ২-১ ব্যবধানেই। এবারের সিরিজের প্রথম টেস্টে ইনজুরির কারণে নেই ওয়ার্নার। কিন্তু সিরিজের বাকি তিন ম্যাচেই ফেরা কথা রয়েছে তাঁর। আর ওয়ার্নার যোগ দিলেও পিতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকবেন কোহলি। এই দুই সমীকরণ অস্ট্রেলিয়ান গ্রেটকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে তাঁর দেশ ২-১ ব্যবধানে জিতে ট্রফি পুনরুদ্ধার করার। পন্টিং একজন সফল ক্রিকেটীয় ব্যক্তিত্ব। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনবার বিশ্বকাপ জিতেছেন। এর মাঝে দুইবারই অধিনায়ক হিসেবে ট্রফি হাতে তোলার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। কোচ হিসেবে অভিষেক হয়েছে আরও আগেই। সর্বশেষ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) দিল্লি ক্যাপিটেলসের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। আর তরুণদের নিয়ে গড়া সেই দলকে ফাইনালে উঠানোর রূপকারও তিনি।

১৯৯৫ সালে অভিষিক্ত পন্টিং সফল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়েরের ইতি টেনেছেন ২০১২ সালে। ভারতের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের শেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন তিনি। ৩৭৫টি ওয়ানডেত ম্যাচে ৪২.০৪ গড়ে করেছেন ১৩৭০৪ রান। যেখানে ৩০টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি রয়েছে ৮২ টি হাফ সেঞ্চুরি। ১৬৮ টেস্টে ৫১.৮৫ গড়ে ১৩৩৭৮ রান করেছেন। ৪১টি সেঞ্চুরি ও ৬২ টি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। এক ইনিংসে তিন শতাধিক রান করতে না পারলেও ৬টি দুই শতাধিক রানের ইনিংস রয়েছে তাঁর।

তরুণদের সুযোগ করে দিতে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার দীর্ঘায়িত করেননি পন্টিং। মাত্র ১৭ টি ম্যাচ খেলেই অবসর নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার আগেই ১৩২.৭৮ স্ট্রাইকরেটে ৪০১ রান করেছেন। তাঁর দুইটি হাফ সেঞ্চুরিও রয়েছে ঝুলিতে। তাঁর ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটিও অপরাজিত ৯৮ রানের। সফল এই খেলোয়াড় ধারাভাষ্যকার হিসেবে কেমন জনপ্রিয়তা অর্জন করেন সেটিই এখন দেখার বিষয়।

 

অর্থসূচক/এএইচআর