‘ভারত চাইছে, বাংলাদেশ দিচ্ছে- বিষয়টা শুধুই এরকম নয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
211

ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে শুধু ভারতের চাওয়াগুলোকেই পূর্ণ করে যেতে হচ্ছে, বিষয়টাকে সেই দৃষ্টিতে না দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিক্রম দোরাইস্বামী।

তিনি দাবি করেছেন, এখানে একটা দেশ লাভবান আর অন্য দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিষয়টা আদৌ সেরকম নয়। বরং ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ের জন্যই এটা একটা ‘উইন-উইন সিচুয়েশন’।

মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ভারতীয় হাইকমিশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ দাবি করেন।

ঢাকার ভারতীয় হাই কমিশন ও ইয়ুথ অপর্চুনিটিস যৌথ উদ্যোগে ‘যুগে যুগে মুক্তিযুদ্ধ ও এর মূল্যবোধ’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে।

বস্তুত বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ‘কানেক্টিভিটি’ রাজনৈতিকভাবে বেশ স্পর্শকাতর বিষয় ছিল মাত্র কিছুদিন আগেও। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে সড়ক, রেল বা নৌপথে ভারতকে ‘ট্রানজিট’-এর অধিকার দেওয়া উচিত কি না, বা দিলেও কী শর্তে বা কোনও মূল্যে দেওয়া উচিত তা নিয়ে সেখানে রাজনৈতিক বিতর্কও বহু পুরনো।

সেই প্রসঙ্গের অবতারণা করেই এদিনের আলোচনাসভায় দোরাইস্বামী বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যে সব সংযোগ বা কানেক্টিভিটি প্রকল্প সম্প্রতি বাস্তবায়িত হয়েছে সেগুলোর অর্জন কিন্তু ‘নেট পজিটিভ’ অর্থাৎ সার্বিকভাবে উভয় দেশের জন্যই ইতিবাচক। এটাকে ভারত চাইল আর বাংলাদেশ দিল এভাবে দেখাটা সমীচীন হবে না, কারণ এখানে দুই দেশই লাভবান হচ্ছে। বাংলাদেশ যেমন দিচ্ছে, তেমনি পাচ্ছেও।

গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় এলপিজি রফতানির যে চুক্তি হয়েছিল, এই প্রসঙ্গে সেই দৃষ্টান্তও টেনে আনেন তিনি। বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, এই এলপিজি রফতানি নিয়েও বাংলাদেশে একটা সময় ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল। এখানে যেটা হয়েছে, বাংলাদেশ বিদেশ থেকে সুবিধাজনক দরে যে লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস আমদানি করছে তারই একটা অংশ বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো ভারতের ত্রিপুরায় পাঠাচ্ছে। বাংলাদেশের নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদে কিন্তু এখানে হাত পড়ছে না, বরং তারা ব্যবসা পাচ্ছে এবং ভারতও অনেক কম খরচে ত্রিপুরার মতো রাজ্যে গ্যাস সিলিন্ডার পৌঁছে দিতে পারছে।

বাংলাদেশে সিলেট, কক্সবাজার বা পার্বত্য চট্টগ্রামে ইদানীং যেমন সব বিলাসবহুল রিসোর্ট বা অবকাশ-যাপন কেন্দ্র গড়ে উঠছে, দুই দেশের মধ্যে উন্নত অবকাঠোমোর সুযোগ নিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকেও এখন বিপুল সংখ্যক পর্যটক এখন সেখানে আসবেন বলে তিনি জানান।

আলোচনাসভায় বিক্রম দোরাইস্বামীর ঠিক পরেই তার বক্তব্য পেশ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

তিনি মন্তব্য করেন, গত কয়েক বছরে ভারত ও বাংলাদেশ যেভাবে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতাকে প্রসারিত করেছে, স্থল সীমান্ত চুক্তি থেকে শুরু করে সমুদ্রসীমার নির্ধারণ চূড়ান্ত করেছে, কানেক্টিভিটি থেকে বিদ্যুৎ-জ্বালানির ক্ষেত্রে নতুন নতুন সমঝোতা করেছে তাতে আরও কিছু পাওয়ার জন্য মানুষের প্রত্যাশা বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক।

লেখক ও গবেষক শাহরিয়ার কবির পরিচালিত আলোচনায় অংশ নেন সুশীল সমাজের বিশিষ্ট প্রতিনিধি অ্যারোমা দত্ত এমপি, অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু এবং জুলিয়ান ফ্রান্সিস ওবিই। ইয়ুথ অপর্চুনিটিসের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়োজিত বাংলাদেশি তরুণরা এতে অংশ নেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন ইলাস্ট্রেটর, বেতারকর্মী, উদ্যোক্তা ইত্যাদি।

অর্থসূচক/কেএসআর