ফাইনালে খুলনা-চট্টগ্রাম

0
319

লিগ পর্বে পয়েন্ট টেবিলের প্রথম ও দ্বিতীয় দল ছিল তারা। শীর্ষে ছিল গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম, আর দ্বিতীয় স্থানে ছিল জেমকন খুলনা। তাই নিয়ম মেনে প্রথম কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি হয়েছিল দল দুটি। সেই লড়াইয়ে চট্টগ্রামকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে যায় খুলনা। তবে চট্টগ্রামের আশা বেঁচে থাকে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে চোখ রেখে। আজ (মঙ্গলবার) বেক্সিমকো ঢাকাকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে তারাই। তাতে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে সেই খুলনা-চট্টগ্রামই।

ঢাকাকে উড়িয়ে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে চট্টগ্রাম। মোস্তাফিজ-শরিফুলের গতির সামনে খেই হারিয়ে একেবারে ইনিংসের শেষ বলে ১১৬ রানে অলআউট হয়ে যায় ঢাকা। সহজ এই লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৭ ‍উইকেটে জিতেছে মোহাম্মদ মিঠুনরা। ‍৫ বল আগে ৩ উইকেট হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পায় চট্টগ্রাম।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে জয়ের জন্য সহজ লক্ষ্যই পেয়েছিল চট্টগ্রাম। ১১৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করেছে তারা। যদিও সৌম্য সরকার-লিটন দাস শুরুতে বেশ কিছু সুযোগ দিয়েছিলেন ঢাকার বোলারদের। কিন্তু ফিল্ডারদের ব্যর্থতায় সেই সুযোগ আর কাজে লাগাতে পারেনি ঢাকা। সৌম্য ২৭ রান করে রান আউটের শিকার হন।

দ্বিতীয় উইকেটে মিঠুন ও লিটন মিলে ৫৭ রান যোগ করেন। ৪৯ বলে ৪০ রান করে মিডউইকেট ক্যাচ দিয়ে আল আমিনের শিকার হন লিটন। ততক্ষণে অবশ্য জয়ের সুবাস পেতে শুরু করেছিল চট্টগ্রাম। দলীয় ১০৮ রানে মিডউইকেটে সাব্বির রহমানের দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরে যান অধিনায়ক মিঠুন। আউট হওয়ার আগে ৩৫ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ৩৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। বাকি কাজটুকু ৫ বল হাতে রেখে সহজেই শেষ করেন শামসুর রহমান (৯*) ও মোসাদ্দেক হোসেন (২*)।

ঢাকার বোলারদের মধ্যে মুক্তার আলী ও আল আমিন একটি করে উইকেট নিয়েছেন।

এর আগে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপর্যয়ে পড়ে ঢাকা। কৌশল পরিবর্তন করে সাব্বিরের সঙ্গে মুক্তারকে ওপেনিংয়ে পাঠায় ঢাকা। কিন্তু দলীয় ১৯ রানে দুই ওপেনার বিদায় নেন! ৭ বলে ৭ রান করে মুক্তার ও ১১ বলে ১১ রান করে সাব্বির দলকে বিপর্যয়ে ফেলে বিদায় নেন।

দলের নিয়মিত ওপেনার নাঈম শেখ তিন নম্বরে নেমে হয়েছেন ব্যর্থ। ১৭ বলে ১২ রান করে বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুলের শিকার তিনি। আগের ম্যাচের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে এমনিতেই চাপে ছিলেন মুশফিক। তার মধ্যে কোয়ালিফায়ার ম্যাচের মধ্যে সেই চাপ খানিকটা বেশিই থাকে। এমন পরিস্থিতিতে মুশফিকও ভেঙে পড়লেন। মোসাদ্দেকের বলে স্কয়ার লেগে খেলতে গিয়ে রাকিবুলের শিকারে পরিণত হন তিনি। যাওয়ার আগে ৩১ বলে ২ চারে ২৫ রানের ইনিংস খেলেন ঢাকা অধিনায়ক।

মুশফিকের বিদায়ের পর পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে দলকে টেনে তোলা ইয়াসির আলীকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছিল ঢাকা। কিন্তু দীর্ঘদেহী এই ব্যাটসম্যান গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যর্থ হয়েছেন। ১ চার ও ১ ছক্কায় ২১ বলে ২৪ রান করে আউট হয়েছেন তিনি। মিডল অর্ডারে নামা আল আমিনের ১৮ বলে ২৫ রানে ঢাকা কোনোরকমে ১০০ পেরিয়ে যায়। শেষ দুই ওভারে প্রত্যাশিত রান না তোলাতে ২০ ওভারে সবক’টি উইকেট হারিয়ে ঢাকার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১১৬।

চট্টগ্রামের বোলারদের মধ্যে মোস্তাফিজ ৩২ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছেন। শরিফুল ১৭ রানে নেন ২ উইকেট। এছাড়া রাকিবুল, নাহিদুল, সৌম্য ও মোসাদ্দেক একটি করে উইকেট নেন।

অর্থসূচক/এমএস