নির্বাচনের প্রতি দেশের মানুষের অনীহা সৃষ্টি হয়েছে: জি এম কাদের

0
117
ফাইল ছবি

নির্বাচনের প্রতি দেশের মানুষের অনীহা সৃষ্টি হয়েছে। দিনে দিনে ভোটারের সংখ্যা কমেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জি এম কাদের। তিনি বলেন মানুষের আগ্রহ কমেছে রাজনীতির প্রতি। রাজনীতির পরিবেশ না পেয়ে অনেকেই রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ছে।

শনিবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বনানী জাপা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের মিলনায়তনে জাতীয় পার্টি খুলনা বিভাগ আয়োজিত তৃণমূলে নেতৃত্ব নির্বাচন বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জি এম কাদের বলেন, জাতীয় পার্টির রাজনীতি হচ্ছে দেশের মানুষকে নির্বাচনমুখী করা। আমরা রাজনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে চাই। রাজনীতির প্রতি মানুষের আকর্ষণ সৃষ্টি করতে চাই। আমরা চাই দেশের মানুষ যেন আবারও ভোটের প্রতি আগ্রহী হয়। নির্বাচনে যেন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা প্রতিফলিত হয়। আমরা মানুষের আস্থা অর্জন করে দেশ ও জনগণের সেবা করতে চাই।

তিনি বলেন, রাজনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য এবং নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ না থাকায় অনেকেই রাজনীতি থেকে ঝড়ে পড়ছে। এটা গণতন্ত্রের জন্য কখনোই শুভ হতে পারে না। এভাবে চলতে থাকলে অনেক দলই সাইনবোর্ড এবং নাম সর্বস্ব দলে পরিণত হবে।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও খুলনা বিভাগীয় অতিরিক্ত মহাসচিব সাহিদুর রহমান টেপার সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাপার মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, দেশের মানুষ নির্বাচনের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে, মানুষ আর ভোট কেন্দ্রে যায় না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দাবি করে তাদের কারো ৪০ শতাংশ কারো ৩৫ শতাংশ ভোট আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে দেখা যাচ্ছে ২ থেকে ১০ শতাংশ ভোট পড়ছে নির্বাচনে। নির্বাচনের প্রতি মানুষের কেন অনাস্থা তা নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) খুঁজে বের করতে হবে। নির্বাচনে মানুষের অনাগ্রহ হচ্ছে গণতন্ত্রের দুর্বলতা। জাতীয় পার্টি কোনো প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন চায় না।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদের (জানিপপ)  চেয়ারম্যান ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, ভোটের গোপনীয়তা এবং নির্বাচনের স্বচ্ছ পদ্ধতি নিশ্চিত করতে হবে। ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র বিপন্ন হতে পারে।

নির্বাচনী কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায়, অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, সৈয়দ দিদার বখত্, জাপা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও মাগুরা জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান সিরাজ সুজা, জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও খুলনা জেলা সভাপতি শফিকুল ইসলাম মধু, যুগ্ম মহাসচিব শেখ আলমগীর হোসেন,  জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর জেলা সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরু চৌধুরী প্রমুখ।

অর্থসূচক/এমএস