ভাসানচরে ১৬৪২ রোহিঙ্গা

0
154

নোয়াখালীর ভাসানচরে পৌঁছেছে ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা। আজ (৪ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে নৌবাহিনীর জাহাজে করে ভাসানচরে পৌঁছে রোহিঙ্গারা।

এরপর হাত ধুয়ে জেটি থেকে গাড়িতে করে তাদের আবাসস্থলে দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শিশুদের চলাচলের জন্য সাহায্য করেন নৌবাহিনীর সদস্যরা। ভাসানচরে পৌঁছে অনেক রোহিঙ্গা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে জাহাজে করে ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা নোয়াখালীর ভাসানচরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গাদের বহন করা জাহাজগুলো চট্টগ্রাম ছেড়ে যায়।

এর আগে কক্সবাজারের উখিয়া থেকে নোয়াখালীর ভাসানচরে নিতে এসব রোহিঙ্গাদের চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়। ২০টি বাসে করে তাদের চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়। পরে সকাল ৯টা থেকে পতেঙ্গা এলাকার বোট ক্লাব ঘাট, কোস্টগার্ড ঘাট ও রেডি রেসপন্স বার্থে রাখা জাহাজে রোহিঙ্গাদের তোলা হয়।

বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য ভাসানচরে অবকাঠামোসহ সব ধরনের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করেছে। সেখানে অবকাঠামো উন্নয়ন, বনায়ন ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছে নৌবাহিনী।

জানা গেছে, প্রায় তিন হাজার ১০০ কোটি টাকায় নির্মিত রোহিঙ্গাদের জন্য এই অস্থায়ী আবাসস্থল এখন কর্মমুখর। রোহিঙ্গাদের জন্য আধুনিক বাসস্থান ছাড়াও বেসামরিক প্রশাসনের প্রশাসনিক ও আবাসিক ভবন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভবন, মসজিদ, স্কুল হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ভবন, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও খেলার মাঠ নির্মাণ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য সেখানে মহিষ, ভেড়া, হাঁস, কবুতর পালন করা হচ্ছে। আবাদ করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি।

জানা গেছে, ইতোপূর্বে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর কার্যক্রম ঘিরে ভাসানচর দ্বীপ ঘুরে আসে ২২টি এনজিওর প্রতিনিধি দল। ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের জন্য সেখানে মজুত করা হয়েছে প্রায় ৭০ টন খাদ্যসামগ্রী।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর প্রত্যাবাসন চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। কিন্তু মিয়ানমার সরকারের প্রতি রোহিঙ্গাদের আস্থার অভাবের কারণে ২০১৮ সালের নভেম্বরে এবং ২০১৯ সালের আগস্টে দুবার তাদের প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

 

অর্থসূচক/এএইচআর