করোনা রুখতে বাইডেনের দাওয়াই!

0
218

মাস্ক পরতেই হবে। অন্তত একশ দিন। আর ওই একশ দিনের গণনা শুরু হবে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেওয়ার পর। এটাই নাকি করোনা রুখতে বাইডেনের দাওয়াই! সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাইডেন বলেছেন, আমেরিকানরা মাস্ক পরলেই করোনা অনেক কমবে। তিনি দায়িত্ব নিয়েই সব সরকারি অফিসে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করবেন।

আমেরিকায় এখনো পর্যন্ত এক কোটি ৪০ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, দুই লাখ ৭৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ট্রাম্প অবশ্য মাস্ক পরা নিয়ে প্রচুর নাটক করেছেন। মাস্ক পরাকে তিনি কখনোই বাধ্যতামূলক করেননি। একটা সময় ট্রাম্প নিজেই মাস্ক পরতেন না। তারপর মত বদল করে তিনি মাঝে মধ্যে মাস্ক পরেছেন। তিনিও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তারপর সুস্থ হয়েই মাস্ক খুলে ফেলেছিলেন। বাইডেনকে অবশ্য সবসময়ই মাস্ক পরতে দেখা গেছে। করোনাকে ট্রাম্প হালকাভাবে নিয়েছিলেন, বাইডেন অসম্ভব গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর প্রচারের অন্যতম বিষয় ছিল করোনা প্রতিরোধ। প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট হওয়ার পর প্রথম যে কাজ তিনি করেছেন তা হলো, করোনা রুখতে টাস্ক ফোর্স গঠন।

সাক্ষাৎকারে বাইডেন বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথম দিনেই আমি অনুরোধ করব, আমেরিকার মানুষ যেন একশ দিন মাস্ক পরে থাকেন। চিরতরে মাস্ক পরতে বলছি না। মাত্র একশ দিন পরতে বলছি। করোনার টিকাও চালু হয়ে যাবে। তার সঙ্গে মাস্ক পরলে করোনার প্রকোপ অনেকটাই কমবে।’

সংবিধান বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আমেরিকানদের মাস্ক পরার জন্য কেউ বাধ্য করতে পারেন না। তবে বাইডেন নির্দেশও দেননি। অনুরোধ করেছেন মাত্র। তিনি এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস সব সময় মাস্ক পরে থাকবেন বলে জানিয়েছেন। বাইডেন বলেছেন, আমেরিকার সরকারি ভবনগুলো প্রেসিডেন্টের অধিকারক্ষেত্রের মধ্যে পড়ে। তাই তিনি সেখানে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ জারি করবেন। ট্রেন, প্লেন, বাসেও মাস্ক পরতে হবে।

বাইডেন আরও জানিয়েছেন, তিনি প্রকাশ্যে করোনার ভ্যাকসিন নিতে চান। তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় দূর হবে। তিনজন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জর্জ ডাব্লিউ বুশ ও বিল ক্লিন্টনও জানিয়েছেন, তাঁরাও প্রকাশ্যে টিকা নিতে চান। বাইডেনের মতে, ভ্যাকসিন যে কাজ করে এই বিশ্বাস মানুষের মনে থাকতে হবে। সে জন্যই তিনি ও কমলা হ্যারিস প্রকাশ্যে ভ্যাকসিন নেবেন। সূত্র: ডিডব্লিউ, এপি, এএফপি, রয়টার্স

অর্থসূচক/এএইচআর