প্রেমিকের ‘আত্মহত্যা’র পর চলে গেলেন প্রেমিকাও

0
301

কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে প্রেমিকাকে ‘গুড বাই’ জানিয়ে তার ওড়না নিয়ে চলে আসেন প্রেমিক সুমন বিশ্বাস (২৫)। পরে সেই ওড়না গাছে বেধে তাতে ফাঁস লাগিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেন সুমন। তবে তার পরিবারের অভিযোগ কৌশলে সুমনকে হত্যা করেছে মিনার পরিবার। এদিকে, এ ঘটনার তিন দিনের মাথায় বুধবার (০২ ডিসেম্বর) রাতে উদ্ধার হয় প্রেমিকা মিনা আক্তারের (১৯) মরদেহ।

ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাতলামারি গ্রামে। সুমন বিশ্বাস ওই গ্রামের কৃষ্ণপদ বিশ্বাসের ছেলে। মিনা আক্তার একই উপজেলার রাজনগর গ্রামের মকবুল হোসেনের মেয়ে।

এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার কাতলামারী বাজারে প্রসাধনীর দোকান রয়েছে সুমন বিশ্বাসের। দোকানে আসা যাওয়ার সূত্র ধরে কলেজছাত্রী মিনা আক্তারের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে মিনার পরিবার এই সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসতে তাকে চাপ দিতে শুরু করে। এ পরিস্থিতিতে গত সোমবার রাতে দোকান বন্ধ করে মিনার সঙ্গে দেখা করতে যান সুমন। কথা বলার এক পর্যায়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সুমন প্রেমিকাকে ‘গুড বাই’ বলে তার ওড়না নিয়ে চলে আসেন। পরে রাতেই ওই ওড়না গলায় পেচিয়ে বাড়ির পাশে একটি গাছে ঝুলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন সুমন। বিষয়টি জানতে পেরে মিনা তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সুমনকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সুমনের মৃত্যুর পর থেকে বিষন্ন দেখায় মিনাকে। এরপর বুধবার রাতে নিজ ঘরের আড়ায় ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় মিনার মরদেহ। পরিবারের সদস্যরা জানান, মিনা আত্মহত্যা করেছেন।

এদিকে সুমনকে কৌশলে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, সুমনের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। মিনার মরদেহও ময়নাতদন্ত করা হবে। রিপোর্ট পাওয়া গেলে ঘটনা বিশ্লেষণ করে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

অর্থসূচক/কেএসআর