ভারতে ‘লাভ-জিহাদ’ বিরোধী আইনে প্রথম গ্রেফতার

0
255

ভারতের উত্তর প্রদেশে একজন হিন্দু নারীকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করার চেষ্টার অভিযোগে পুলিশ একজন মুসলিম পুরুষকে গ্রেফতার করেছে। উত্তর প্রদেশে ‘লাভ জিহাদ’ অধ্যাদেশের আওতায় প্রথম গ্রেফতার হলেন তিনি।

রাজ্যের বেরালি জেলার পুলিশ গতকাল বুধবার (০২ ডিসেম্বর) টুইটারে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে বিবিসির খবরে বলা হয়।

হিন্দু-মুসলিম বিয়ে বন্ধ করার জন্য দেশটিতে ২৪ নভেম্বর দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জামিন অযোগ্য- এমন বিধান রেখে উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকার একটি নতুন আইন পাস করে। সমালোচকেরা আইনটিকে ইসলামোফোবিক বলে আখ্যা দিয়েছেন, এর বিরুদ্ধে দেশে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

উত্তর প্রদেশ ছাড়াও আরো চারটি রাজ্যে ‘লাভ-জিহাদ’ বিরোধী আইনের খসড়া চূড়ান্ত করছে।

যে নারীকে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছিল তার বাবা বিবিসিকে বলেছেন, তিনি পুলিশে অভিযোগ করেছেন, কারণ ওই ব্যক্তি তার মেয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল এবং হুমকি দিচ্ছিল।

মুসলিম ব্যক্তির সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্ক ছিল, কিন্তু বছরের শুরুতে তিনি অন্য একজন পুরুষকে বিয়ে করেন।

পুলিশ বিবিসিকে বলেছে, এক বছর আগে ওই নারীর পরিবার ওই মুসলিম ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করেছিল। কিন্তু পরে ওই নারী ফেরত এসে যখন বলেন যে তাকে অপহরণ করা হয়নি, তখন মামলা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বুধবার গ্রেফতারের পর ওই ব্যক্তিকে ১৪ দিনের জুডিশিয়াল কাস্টডিতে পাঠানো হয়েছে। তবে সাংবাদিকদের কাছে ওই মুসলিম ব্যক্তি দাবি করেছেন, তিনি নির্দোষ, এবং ‘ওই নারীর সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই’।

‘লাভ জিহাদ’ অধ্যাদেশে যা আছে
লাভ জিহাদ ঠেকাতে উত্তর প্রদেশে অধ্যাদেশ জারি হয় গত ২৫ নভেম্বর। এর আগের দিন দেশটির এলাহাবাদ হাইকোর্টের এক রায়ে বলা হয়, ধর্ম নয়, বিয়ের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক নর-নারীর সম্মতিই প্রথম ও শেষ কথা।

অথচ পরদিনই উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক ওই অধ্যাদেশ জারির অনুমোদন দেয়। এই খবর জানিয়ে যোগী মন্ত্রিসভার সদস্য ও মুখপাত্র সিদ্ধার্থনাথ সিং জানান, বিয়ের জন্য কোনো মেয়ে ধর্ম পরিবর্তন করতে চাইলে বিয়ের দুই মাস আগে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানাতে হবে।

জেলা প্রশাসকের অনুমতি পেলেই ধর্মান্তর ও বিয়ে সম্ভব হবে। তবে বিয়ের পর ধর্মান্তরের জন্য আবেদনের প্রয়োজন নেই।

সিদ্ধার্থনাথ সিং বলেন, যেভাবে ছলচাতুরী করে, মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে অথবা বলপূর্বক ধর্মান্তর করানো হচ্ছে, তা রুখতে কঠোর হওয়া ছাড়া উপায় নেই। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ধর্ম পরিবর্তনের উদ্দেশ্য নিয়ে বিয়ে করা হলে সেই বিয়ে বাতিল বলে গণ্য করা হবে। বিয়ের জন্য ধর্মান্তরের ঘটনায় ১০ বছর পর্যন্ত সাজার মেয়াদ রাখা হয়েছে।

সেই সঙ্গে দিতে হবে ৫০ হাজার রুপি পর্যন্ত জরিমানা। বিজেপিশাসিত হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, কর্ণাটক প্রভৃতি রাজ্যও এ ধরনের আইন আনার পক্ষে মত দিয়েছে। জোর করে ধর্মান্তরের সাজা এক থেকে ৫ বছর পর্যন্ত জেল ও ১৫ হাজার রুপি পর্যন্ত জরিমানা।

তফসিলি জাতি, জনজাতি ও দলিতদের ধর্মান্তরের সাজা ৩ থেকে ১০ বছরের জেল ও ২৫ হাজার রুপি জরিমানা। মিথ্যা কথা বলে বা প্রলোভন দেখিয়ে গণহারে ধর্মান্তরের ঘটনার সাজা হবে ১০ বছরের জেল ও ৫০ হাজার রুপি জরিমানা। অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের জন্য ধর্মান্তর করানোর সাজাও একই।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, বিয়ের জন্য ধর্ম পরিবর্তনে যে জোর খাটানো হয়নি, প্রলোভনের ফাঁদে ফেলা হয়নি বা ছলচাতুরী কি মিথ্যা স্তোক দেওয়া হয়নি, তা প্রমাণের দায় থাকবে অভিযুক্ত অথবা ওই বিয়ের সঙ্গে যুক্ত যারা, তাদের ওপর। জবরদস্তি ধর্মান্তরের ঘটনা জামিন অযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে।

বিজেপির এই উগ্র হিন্দুত্ববাদের বিরোধিতা করছেন বিরোধীরা। রাজস্থানের কংগ্রেসদলীয় মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট বলেছিলেন, সাম্প্রদায়িকতায় উসকানি দিয়ে সম্প্রীতি নষ্ট করে সংখ্যাগরিষ্ঠের মেরুকরণই বিজেপির উদ্দেশ্য। জেলা প্রশাসকের অনুমতি পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের ধারণা, বহু ক্ষেত্রে বিজেপিশাসিত রাজ্যের জেলা প্রশাসকেরা এই প্রবণতা রুখতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করবেন।

অর্থসূচক/কেএসআর