ভারতে কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবি: সরকারের শেষ সুযোগ আজ

0
127

ভারতে নতুন কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে কৃষকদের আন্দোলন আব্যাহত রয়েছে। এ নিয়ে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ওই আন্দোলন চলছে। চলমান কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং। এই সাবেক সেনা অফিসার এখন কংগ্রেসের নেতা এবং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী।

কেন্দ্রের কৃষি আইন নিয়ে প্রথম থেকেই নিজের দ্বিমত জানিয়ে চলেছেন অমরিন্দর। নিজের রাজ্যে যতে কেন্দ্রের আইন বলবৎ না হয়, তার জন্য নতুন আইন বানিয়ে রেখেছেন তিনি। সেই অমরিন্দরের সঙ্গেই বৃহস্পতিবার বৈঠক করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অমরিন্দরের কাছ থেকে কৃষক আন্দোলন বোঝার চেষ্টা করেছেন এবং তা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তার পরামর্শ চেয়েছেন।

অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পয়েন্ট করে করে তিনি কেন নতুন কৃষি আইন সমস্যার কারণ তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছেন। একই সঙ্গে শাহকে জানিয়েছেন, প্রয়োজনে সরকারের সঙ্গে কৃষকদের বৈঠকে তিনি মধ্যস্থতা করতে পারেন। কিন্তু কৃষি আইন যে গোটা দেশে সমস্যার কারণ হতে পারে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন অমরিন্দর।

অমরিন্দর যাই বলুন, কৃষকরা বলে দিয়েছেন বৃহস্পতিবারই সরকারের শেষ সুযোগ। এ দিনই দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে ৩৫টি কৃষি সংগঠনের নেতার সঙ্গে দ্বিতীয়বার বৈঠকে বসেছে সরকার। প্রথম বৈঠক কয়েক ঘণ্টাতেই ব্যর্থ হয়েছিল। এ দিনের বৈঠকে কৃষকরা কী দাবি করবেন, তা বৈঠকে ঢোকার আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে সংসদ ডেকে কৃষি আইন বাতিল করতে হবে এবং ফসলের ন্যূনতম মূল্য আইনে ঢোকাতে হবে।

যদিও নরেন্দ্র মোদি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনিও ন্যূনতম সহায়ক মূল্য আইনে ঢোকানোর জন্য জোর দাবি করেছিলেন। অথচ তাঁর আমলেই কেন্দ্র যে কৃষি আইন এনেছে, তাতে সেই বিষয়টির কোনো উল্লেখ আইনে নেই।

মোদি সরকারের এক সূত্র ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, এর আগে বিষয়টি নিয়ে সরকার যতটা একরোখা ছিল, এ দিন সেই মনেোভাব নাও দেখানো হতে পারে। কৃষকদের সঙ্গে একটি আপস মীমাংসায় আসার চেষ্টা হতে পারে। তবে কৃষকদের দাবি সম্পূর্ণভাবে মেনে নেওয়ার কথা এখনো সরকার ভাবছে না। কিন্তু নতুন আইনে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের বিষয়টি ঢোকানোর কথা বলা হতে পারে। কৃষকরা তা সমর্থন করবেন কি না, তা অবশ্য এখনই বলা মুশকিল। কৃষকদের সঙ্গে সরকারের বৈঠক যে খুব ফলপ্রসূ হচ্ছে না, তা ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। সরকার কৃষক নেতাদের দুপুরে খাওয়ার অনুরোধ করেছিল, নেতারা বলেছেন, তাঁদের সঙ্গে ছয় মাসের খাবার আছে, ফলে সরকারের খাবার তাঁরা খাবেন না।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, বৃহস্পতিবারই কোনো সমাধান সূত্র মেলার সম্ভাবনা কম। তবে আলোচনার পরিসর যাতে বজায় থাকে, সরকার সে বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে।

সংসদের গত অধিবেশনে কেন্দ্র যখন কৃষি আইন পাশ করেছিল, তখন সংসদের ভিতরেও বিপুল হট্টগোল হয়েছিল। বিরোধীদের অভিযোগ, সরকার বিরোধীদের কথা উপেক্ষা করে সিলেক্ট কমিটিতে বিলটি না পাঠিয়ে আইন প্রণয়ন করে দেয়। তার পর থেকেই পাঞ্জাব এবং হরিয়ানায় কৃষক আন্দোলন শুরু হয়।

এ দিকে এক সময় উত্তর প্রদেশের কৃষক নেতা এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদী মহেন্দ্র সিং টিকায়তের ছেলেকেও চলতি আন্দোলন ভাঙার কাজে সরকার ব্যবহারের চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। হরিয়ানার টিকায়ত সম্প্রদায় বিজেপি ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। তাদের লড়াইয়ের উল্টো পক্ষে নামিয়ে দিয়ে কেন্দ্র কৃষক বিক্ষোভ ভাঙার চেষ্টা করছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

এদিকে আজ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, ‘কৃষকদের জীবন-জীবিকা নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগে রয়েছি। ভারত সরকারের উচিত নয়া কৃষি বিল প্রত্যাহার করে দেওয়া। অবিলম্বে বিল প্রত্যাহার না করা হলে আমরা রাজ্য ও দেশজুড়ে আন্দোলনে নামবো। আমরা প্রথম থেকেই এই কৃষক-বিরোধী বিলের বিরোধিতা করে আসছি।’

এছাড়া আন্দোলনরত সংগঠনের অন্যতম সারা ভারত কৃষক সভার সাধারণ সম্পাদক ও সিপিএমের সাবেক এমপি হান্নান মোল্লা বলেন, ‘ওই তিনটি আইনই আসলে ধাপ্পাবাজি। কৃষকদের উপার্জন বৃদ্ধির নামে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি। সেজন্য এর কোনও সংশোধন নয়, পুরোটাই বাতিল করতে হবে। নইলে আন্দোলন চলবে।’ প্রয়োজনে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে আইন বাতিলের দাবিও করেছে কৃষক সংগঠনের একাংশ।

কৃষক ইস্যুকে সমর্থন করে আগামীদিনে ভারত জুড়ে মোটর ট্রান্সপোর্ট সংগঠন ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছে। মোদি সরকার কৃষকদের দাবি না মানলে আগামী ৮ ডিসেম্বর দেশজুড়ে ওই ধর্মঘট হতে পারে। এরফলে সব মিলিয়ে মোদি সরকার প্রবল চাপে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: পার্সটুডে, ডয়চে ভেলে

 

অর্থসূচক/এএইচআর