৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা: আসামির মৃত্যুদণ্ড

0
158

রংপুরের পীরগঞ্জে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে শ্বাসরোধে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় আসামি রিয়াদ প্রধানকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক মোস্তফা পাভেল রায়হান জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। প্রজেক্টরের মাধ্যমে এই প্রথম রায় দেখানো হলো।

এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আদালতের হাজতখানা থেকে আসামি রিয়াদ প্রধান ও ধলি বেগমকে কড়া পুলিশি পাহারায় আদালতে আনা হয়। আগে থেকেই আদালতে প্রবেশ পথে দুটি প্রজেক্টর মেশিন বসানো হয়। বেলা ১২টা ৫ মিনিটে বিজ্ঞ বিচারক রায় প্রধান শুরু করেন। ১৩ হাজার ১৪৭ শব্দের ৪৬ পৃষ্ঠা কম্পোজ করা রায় পাঠ করে শোনানো হয়। এ সময় আদালতের দেওয়া রায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখানো হয়।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৪ জুন রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর উত্তর পাড়া গ্রামের শাহাজাহান আলীর কন্যা স্থানীয় দুরামিঠিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানজিলাকে (৮) আম খাওয়ানোর কথা বলে একই গ্রামের মোমেন আলীর ছেলে রিয়াদ প্রধান ডেকে তার ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এরপর বাড়ির কাজের মেয়ে ধলি বেগমের সহায়তায় শিশুটির মরদেহ নিজের ঘুমানোর ঘরে খাটের নিচে গর্ত করে পুঁতে রাখে। অনেক খোঁজাখুজির পরও  খোঁজ না পাওয়ায় এ ঘটনায় থানায় জিডি করে শিশুটির পরিবার। পরে পুলিশ ধর্ষক রিয়াদকে গ্রেফতার করে। রিয়াদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক নিহত শিশুর লাশ তার ঘরে খাটের নিচে গর্ত খুঁড়ে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আসামি রিয়াদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। আদালতে ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষে রিয়াদকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন। জরিমানার অর্থ নিহতের স্বজনদের কাছে প্রদান করারও নির্দেশ দেন আদালত। অন্যদিকে আসামি ধলু বেগমকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়। রায় ঘোষণার পরপরই আসামিদের কঠোর পুলিশি পাহারায় আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় নিহত শিশুর মা আছিয়া বেগম হাউমাউ করে কেঁদে বলেন, এ রায়ে তারা খুশি। তবে চুড়ান্তভাবে রায় কার্যকর করা হলেই আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে। তিনি আরও বলেন, আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি।

সরকার পক্ষের আইনজীবী কাওছার আলী অ্যাডভোকেট জানান, আমরা বাদী পক্ষের ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য দিয়ে মামলাটি প্রমাণ করতে শতভাগ সক্ষম হয়েছি। আদালত আসামি রিয়াদ প্রধানকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। এ অর্থ ভিকটিমের পরিবারকে দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি যুগান্তকারী রায়।

অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী ফিরোজ আহাম্মেদ অ্যাডভোকেট জানান, এ রায়ে ন্যায় বিচার পাওয়া যায়নি। তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

অর্থসূচক/এমএস