করোনার টিকা বিতরণে সশস্ত্র বাহিনীকে চায় বিএনপি

0
106

মহামারি করোনা ভাইরাসের টিকা সুষ্ঠুভাবে বিতরণে সশস্ত্র বাহিনীকে দায়িত্ব দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।

দলটির মতে, প্রায় ১৬ কোটি মানুষের জন্য ৩২ কোটি ডোজ ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হবে। বর্তমানে দুর্নীতিগ্রস্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দফতরের পক্ষে এই ব্যাপক কর্মযজ্ঞ সুষ্ঠুভাবে পালন করা সম্ভব নয়। এই কাজে সশস্ত্র বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দায়িত্ব প্রদান করা উচিত।

আজ সোমবার (৩০ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে রোববার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে এসব প্রস্তাব করা হয়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণের স্বচ্ছতা, কঠোর নজরদারি এবং জবাবদিহিতার ব্যবস্থা সংবলিত পরিকল্পনা জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। করোনা ভাইরাসের টিকা প্রস্তুত। ইতিমধ্যেই কয়েকটি দেশে চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। অনেক দেশের সরকার টিকা সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে শুরু করেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশের দায়িত্বজ্ঞানহীন সরকার এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে তা স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরছে না। বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যক্তি বিভ্রান্তিমূলক তথ্য তুলে ধরছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অযোগ্যতার কারণে জীবন রক্ষাকারী টিকা সংগ্রহ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং বিতরণের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে না পারলে জনগণ উপকৃত হবে না। উপরন্ত ব্যাপক দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হবে। যেহেতু যথাযথ তাপমাত্রায় এই ভ্যাকসিন সংরক্ষণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেহেতু আগে থেকেই এই বিষয়ে সব পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আবারও বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণের শুরু থেকেই সরকারের ক্ষমাহীন উদাসীনতা ও ব্যর্থতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এখনও পরীক্ষার হার অত্যন্ত সীমিত। অন্যদিকে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত থাকায় মৃত্যুর হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সম্প্রতি ঢাকা মহানগরে অনেকগুলো বস্তিতে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এর ফলে অসংখ্য কর্মজীবী মানুষ বাস্তুহীন হয়ে পড়েছে। খোলা আকাশের নীচে খাদ্যাভাবে অসহনীয় জীবন কাটাচ্ছে তারা। আমরা মনে করি সরকারের মদদপুষ্ট প্রভাবশালী মহলের সরকারি জমি দখলের অসৎ উদ্দ্যেশেই এসব অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে।

অর্থসূচক/কেএসআর