‘আমার বাবা শেষ, আমিও শেষ’

0
213

রাজধানীর শ্যামপুরে সহকর্মীদের দেওয়া পেট্রলের আগুনে দগ্ধ যুবক রিয়াদ হোসেন (২০) মারা গেছেন। তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আজ শনিবার (২৮ নভেম্বর) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ছেলেকে হারিয়ে বাবা ফরিদ মিয়া ও তার মা রিনা বেগম বাকরুদ্ধ। এত অল্প বয়সে আগুনে পুড়ে ছেলের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তারা।

ফরিদ মিয়া বলেন, ‘আমার বাবা শেষ, আমিও শেষ। আমিও আর মনে হয় বাঁচুম না। আমার বাবারে তারা পুড়াইয়া মারছে। এখন আবার আমারে হুমকি দেয়।’

‘আমার সন্তানকে যারা পুড়াইয়া মারছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাদের স্বজনরা আমাকে হুমকি দেয়। দেখে নেওয়ার ভয় দেখায়।’

‘বাবা গো আমাকে আর দেখে নিবে কি? আমি তো এমনিতেই শেষ। আমার সন্তান তো নাই, তারা আমার সন্তানরে পুড়াইয়া মারছে। আমার সন্তান পুলিশের কাছে সব বলে গেছে, কারা কারা তার গায়ে আগুন দিছিল পুলিশ সেগুলো রেকর্ড করছে’, যোগ করেন রিয়াদের বাবা।

ঢাকার জুরাইনের কমিশনার রোডে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন রিয়াদ। তার বাবা ফরিদ মিয়া একজন গাড়িচালক। রিয়াদ সিদ্ধেশ্বরী কলেজে অনার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। করোনা মহামারির মধ্যে পরিবারে অস্বচ্ছলতা দূর করতে ৪ নভেম্বর ৫ হাজার টাকা বেতনে জুরাইন ‘এস আহমেদ’ পেট্রল পাম্পে চাকরি নিয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার ভোরে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয় তাকে।

শ্যামপুর থানার এসআই মো. মাহবুবুর রহমান জানান, ওই পেট্রল পাম্পে সহকর্মীরা রিয়াদের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। এ ঘটনায় রিয়াদের বাবার দায়ের করা মামলায় মাহমুদুল হাসান ইমন (২২), ফাহাদ আহমদ পাভেল (২৮) ও শহিদুল ইসলাম রনিকে (১৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা তিনজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ভিকটিম মারা যাওয়ায় আসামিদের পুলিশ হেফাজতে চেয়ে আবার আবেদন করা হবে।

এসআই মাহবুবুর রহমান বলেন, ওই পেট্রলপাম্পে রিয়াদ ও গ্রেপ্তার তিনজন অপারেটরের দায়িত্ব পালন করছিলেন। ইমন রাতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় রিয়াদ তাকে জাগায়। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে অন্য দু’জনকে নিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থসূচক/কেএসআর