এবার পেনসিলভানিয়ায় হার, আদালতে টিকছে না ট্রাম্পের মামলা

0
150

পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে ভোট কারচুপির অভিযোগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়ের করা আরও একটি মামলা খারিজ করে দিয়েছেন মার্কিন ফেডারেল আদালত। তিন বিচারপতির প্যানেল জানান, ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা শিবির অভিযোগের কোনও প্রমাণ দাখিল করতে পারেনি। এ জন্য স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) মামলাটি পুরোপুরিভাবে খারিজ হয়।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবী রুডি জুলিয়ানি পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ভোটের ফলাফল বাতিল চেয়ে আদালতে মামলা করেছিলেন। পেনসিলভানিয়া ফেডারেল আদালত ভোটের ফলাফল প্রত্যয়ন করার ওপর আস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে ২৭ নভেম্বর মামলার শুনানি ঠিক করেছিলেন। অবশ্য এর আগেই রাজ্যের ভোটের ফলাফল প্রত্যয়ন হয়ে গেছে।

২৭ নভেম্বর আদালতের রায়ে বিচারক স্টিফেনোস বিবাস বলেছেন, এ মামলায় সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ এবং প্রমাণ নেই। মামলা খারিজ হয়ে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা এ নিয়ে আপিল আদালতে যাবেন। সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে ট্রাম্প আইনজীবীদের নিষ্ফল যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।

ট্রাম্পের আইনজীবী দলের অন্যতম জেনা এলিস এক টুইটবার্তায় বলেন, পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের বিচার বিভাগ রাজনৈতিক কারণে রাজ্যের ব্যাপক ভোট জালিয়াতি আড়াল করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে এখন বিষয়টি প্রমাণের জন্য তারা সুযোগ পাবেন বলে এমন রায়কে ধন্যবাদ জানান জেনা এলিস।

এখন এ মামলার খারিজ হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে আপিল করতে ট্রাম্পের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে যাবেন। রাজ্যের এমন আপিল আবেদন বিচারপতি সামুয়েল এলটোর কাছে যাবে। বিচারপতি এলিটো তখন তার অন্য আট বিচারপতি নিয়ে শুনানি গ্রহণ করবেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশা করছেন, সুপ্রিম কোর্টের নয় বিচারপতির মধ্যে তার ঘরানার সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখন রয়েছে। রাজনৈতিক মতাদর্শে অসম বিভক্ত সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্য বা অন্য কোনো অঙ্গরাজ্যের ভোটের ফলাফল পাল্টে ফেলার কোনো আদেশ নিয়ে আসতে পারবেন- এমন মনে করেন না কোনো আইন বিশ্লেষকও।

২৬ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সময় ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউস ছাড়ার ইঙ্গিত দেন। প্রথমবারের মতো বলেন, ইলেক্টোরাল কলেজ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে তিনি হোয়াইট হাউস থেকে চলে যাবেন। নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করা তার জন্য কঠিন এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি আবারও নির্বাচনে ভোট কারচুপি ও জালিয়াতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। নতুন প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকবেন কি না, এ নিয়ে কিছু বলেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

যদিও একই দিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটবার্তায় দাবি করেন, ‘বহু জালিয়াতি ভোট পড়েছে। বাইডেন তখনই হোয়াইট হাউসে বসবেন, যখন প্রমাণ হবে তার পাওয়া ৮ কোটি ভোট অবৈধ নয়।’ যদিও একদিন আগেই বলেন, যে কোনও মুহূর্তে ‘ওভাল অফিস’ ছেড়ে দেব।

অর্থসূচক/কেএসআর